টানা প্রায় দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তেল সংকটের মধ্যে দেশ। প্রথমে রেশনিং করে পাম্প থেকে তেল দেওয়া এবং পরে রেশনিং তুলে নিলেও তাতে কমেনি পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। অনেকে ভেবেছিল, ঈদের ছুটিতে হয়তো ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে না। সেটাও ভুল প্রমাণ হয়েছে ঈদের দ্বিতীয় দিনে।

গতকাল শনিবার (২১ মার্চ) রাজধানীর ট্রাস্ট তেল পাম্পে যানবাহনের সারি ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত। আর আজ সেই সারি কয়েকগুণ বেড়ে জাহাঙ্গীর গেট ছাড়িয়ে গেছে।
রোববার (২২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর বিভিন্ন তেল পাম্প ঘুরে অধিকাংশ পাম্প বন্ধ এবং খোলা পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
সরেজমিনে রাজধানীর মহাখালী ক্রিসেন্ট তেল পাম্প, গুলশান সার্ভিস স্টেশন, ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ ও ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, একমাত্র ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনেই তেল দেওয়া হচ্ছে। বাকিগুলো বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ইউরেকা এন্টারপ্রাইজ তেল পাম্পে তেল দেওয়া না হলেও গ্যাস দেওয়ার কার্যক্রম চালু রয়েছে।
ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশনের সামনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত পরিবহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ির (প্রাইভেটকার) লাইন গিয়ে পৌঁছেছে জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত, আর মোটরসাইকেলের লাইন পেরিয়ে গেছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফলে দীর্ঘ অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থেকে যানবাহনে তেল নিতে দেখা যায়।
ট্রাস্ট পাম্পে তেল নিতে আসা ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মোর্শেদ বলেন, তেল যতটুকু চাওয়া হচ্ছে, দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগছে। গরমে দাঁড়িয়ে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোটরসাইকেল চালক শামীম বলেন, দেড় ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। এখনও তেল পাম্প পর্যন্ত যেতে পারিনি।
অন্য এক মোটরসাইকেল চালক মাহিদুল বলেন, গতকাল তেল নিতে এসে দেখি অনেক বড় লাইন। পরে তেল না নিয়ে চলে গেছি। ভেবেছিলাম, ঈদের দিন সবাই ঘুরতে যাবে, তাই পাম্পে এত চাপ। যার কারণে তেল না নিয়ে চলে গেছি। ভেবেছিলাম আজ ফাঁকা থাকবে, কিন্তু আজ পাম্পে এসে দেখি গতকালের চেয়ে কয়েকগুণ বড় লাইন।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফিলিং স্টেশনের এক কর্মী বলেন, তেলের কোনো সংকট নেই। কিন্তু অনেক পাম্প বন্ধ থাকায় আমাদের পাম্পে চাপ কমছে না।



