রবি পথ- কর্মময় ৮০ | চ্যানেল আই অনলাইন

রবি পথ- কর্মময় ৮০ | চ্যানেল আই অনলাইন

বাংলাদেশের অভিনয় জগতে অনন্য একটি নাম আবুল হায়াত। ষাটের দশক থেকে নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন তিনি। বর্ষীয়ান এই অভিনেতা একাধারে নাট্যকার ও নির্মাতা। ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয় ও লেখালেখিতে নিজের গতি ধরে রেখেছেন।

শনিবার (২ নভেম্বর) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে আবুল হায়াতের আত্মজীবনী ‘রবি পথ’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠান। বাংলাদেশ অভিনয়শিল্পী সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠানটির সহযোগিতায় রয়েছে চ্যানেল আই।

বই প্রকাশনা উপলক্ষে মঞ্চে উঠে তারিক আনাম বলেন, হায়াত ভাই আমাদের কাছে অনুসরণীয়, অনুকরণীয়। আমার সুযোগ হয়েছে তার মতো গুণী মানুষের সাথে বহু কাজ করার।

তারিক আনাম আফসোস করে বলেন, এই অনুষ্ঠানটি নিয়ে যখন আলাপ হচ্ছিলো, তখন আমার মনে হয়েছিলো ‘রবি পথ’-হায়াত ভাইয়ের এই বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানটি আরো বড় পরিসরে হওয়া উচিত। আমাদের দুর্ভাগ্য, যখন তাকে আমরা হারিয়ে ফেলবো তখন আফসোস করবো। অনুশোচনা করবো। এটা বোধহয় জাতিগতভাবে আমাদের একটা চরিত্র। এগুলো থেকে আমাদের বের হয়ে আসা উচিত।

GOVT

অনুষ্ঠানে তারিক আনাম ছাড়াও নরেশ ভুঁইয়া, সারা যাকের, অপি করিম, রওনক হাসানসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বহু গুণীজনেরা কথা বলেন। পরে আত্মজীবনী লেখার ভাবনা বিষয়েও গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন আবুল হায়াত।

এ বিষয়ে প্রবীন এই অভিনেতা বলেন, ‘হঠাৎ মনে হয়েছিল, জীবনে তো অনেক ঘটনা আছে। ছোটবেলা থেকে অনেক কিছু দেখেছি। সেগুলো গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরেছি বইতে। এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানেও না, এ রকম পুরোনো অনেক ঘটনা আছে। আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব সবাই উৎসাহ দিয়েছে। পরে ভাবলাম, লিখেই ফেলি।’

আবুল হায়াতের মতো অন্য অভিজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ শিল্পীদেরও আত্মজীবনী লেখা উচিৎ বলেও মনে করেন এই বর্ষীয়ান অভিনেতা।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এটার একটা ভালো দিক আছে। ৮০ বছরের একটা ভ্রমণ আমার, অনেক কিছু দেখেছি, যা অনেকে হয়ত জানে না। সুতরাং আমার মতো যারা আছেন, তারাও যদি নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আত্মজীবনী লেখেন, তাহলে অবশ্যই সেটা নতুন প্রজন্মের জন্য ভালো।’

গল্প-উপন্যাসের বাইরে নিজের জীবনের নানা কথা, আলাপ আর ঘটনা নিয়ে ‘রবি পথ’ বইটি সাজিয়েছেন এই অভিনেতা। প্রায় এক দশক ধরে বইয়ের কাজ চলেছে বলেও জানান।

আবুল হায়াত নামে পরিচিত পেলেও এই অভিনেতার ডাক নাম রবি। ডাক নামেই নিজের আত্মজীবনীর নাম রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবুল হায়াত।

১৯৪৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ভারতের মুর্শিদাবাদে জন্মগ্রহণ করেন আবুল হায়াত। ১৯৪৭ সালে পরিবারের সঙ্গে চলে আসেন চট্টগ্রামে। মাত্র ১০ বছর বয়সে মঞ্চে ওঠেন অভিনয়ের জন্য। যে অভিনয়ের সঙ্গে এখনও নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন অভিনেতা।

এরপর ১৯৬৯ সাল থেকে টিভি নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নাটকের পাশাপাশি ‘অজ্ঞাতনামা’, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘জয়যাত্রা’, ‘গহীনে শব্দ’সহ আরো কয়েকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

২০০৮ সালে তৌকীর আহমেদ পরিচালিত ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ‘দারুচিনি দ্বীপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৫ সালে তিনি দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত হন।

Chokroanimation

Scroll to Top