যেভাবে ভেনিসে জায়গা করে নিল বাংলাদেশের সিনেমা

যেভাবে ভেনিসে জায়গা করে নিল বাংলাদেশের সিনেমা

সংগ্রাম থেকে ভেনিসে
নারী হয়ে সিনেমা বানাতে এসে এই দ্বিতীয় সহস্রাব্দেও বহু মানুষের কথা শুনতে হয়েছে। এক যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে সবকিছু নীরবে সহ্য করে গেছেন; কিন্তু কখনোই আত্মবিশ্বাস হারাননি। সিনেমা নিয়ে একদিন বড় জায়গায় যাবেন, সেই বিশ্বাস সব সময় ছিল। তবে এত অল্প সময়ে ভেনিসের মতো উৎসবে তাঁর সিনেমা জায়গা পাবে, শুটিংয়ের সময়েও এটা ভাবেননি। রুবাইয়াত বলেন, ‘আগের সিনেমা কোথায় জমা দেব, সেটা আগেই ভাবতাম। কিন্তু এবারের সিনেমাটি ছিল আমার জন্য বিশেষ এক ব্যক্তিগত জার্নি। বাবা মারা যাওয়ার পরে সিনেমার মধ্য দিয়েই নিজেকে খোঁজার চেষ্টা করেছি। এর মধ্যে আবার অসুস্থ ছিলাম। এসব কাটিয়ে ওঠার জন্য প্রথম আমার বাসায় শুটিং করেছি। কোনো উৎসবে যাবে, এসব মাথায় ছিল না। আমার জায়গা থেকে সৎভাবে সিনেমাটির শুটিং করেছি, সম্পাদনা করেছি, ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করেছি, স্বাধীনভাবে সবকিছু করেছি।’

বাংলা সিনেমার বড় অর্জন
কান চলচ্চিত্র উৎসবের আঁ সার্তে রিগা বিভাগে এর আগে মনোনয়ন পায় আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের সিনেমা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’। সেটা ছিল কানের অফিশিয়াল শাখায় বাংলাদেশের কোনো সিনেমার প্রথম মনোনয়ন। তারপর বাংলাদেশের সিনেমার বড় অর্জন ভেনিসের এই মনোনয়ন। রুবাইয়াত আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের হয়ে সিনেমা দিয়ে ভেনিসে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি, এটাই আমার জন্য অনেক সম্মানের। আমি চাই, দেশের সিনেমা আরও ভালো জায়গায় যাক।’

১৯৩২ সালে যাত্রা শুরু করা ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ হরাইজন বা অরিজোন্তি। তরুণ ও আগামীর প্রতিভাবান নির্মাতাদের সিনেমা তুলে ধরে এই শাখা। এ শাখার সিনেমায় স্থানীয় গল্প, উপস্থাপনা, গল্প বলার ধরন, বিষয়বস্তুর নতুনত্ব, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্ব রয়েছে—এমন চ্যালেঞ্জিং গল্পের সিনেমাগুলোকেই তুলে ধরে। সেখানে হাজারো সিনেমার মধ্যে ১৯টি সিনেমা নির্বাচিত হয়েছে। এই বিভাগে আরও জায়গা করে নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নির্মাতা অনুপর্ণা রায়ের ‘লাভারস ইন দ্য ব্লু নাইট’। গত বছর এ বিভাগে অনুপর্ণার আগের সিনেমা ‘সংস অব ফরগটেন ট্রিজ’-এর জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার জিতেছিলেন।

Scroll to Top