যেভাবে জানবেন আপনি কখন অজ্ঞান হবেন | চ্যানেল আই অনলাইন

যেভাবে জানবেন আপনি কখন অজ্ঞান হবেন | চ্যানেল আই অনলাইন

কেউ অজ্ঞান হওয়ার আগেই স্মার্টওয়াচের সেন্সর ব্যবহার করে সতর্ক সংকেত দেওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন গবেষকরা।

সম্প্রতি ‘ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নাল-ডিজিটাল হেলথ- এর একটি সংখ্যায় এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইচালিত এ সিস্টেমটি প্রায় ৮০ শতাংশ নির্ভুলভাবে পূর্বাভাস দিতে পারে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে জীবন বাঁচাতে সাহায্য করবে বলে দাবি জানিয়েছেন গবেষকরা।

তারা বলছেন, স্মার্টওয়াচ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে বিশ্বে প্রথমবারের মতো এমন এক সিস্টেম তৈরি করেছেন, যা কেউ অজ্ঞান হতে যাচ্ছেন কি না, তা আগেভাগেই বলে দেবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘চুং-আং ইউনিভার্সিটি হসপিটাল’-এর ১৩২ জন রোগীর ওপর পরিচালিত এক ক্লিনিক্যাল গবেষণায় স্যামসাং গ্যালাক্সি ওয়াচ ব্যবহৃত হয়েছিল।

উদ্ভাবিত এ নতুন সিস্টেমটি পরিধানকারীর হৃদস্পন্দনের জৈবিক সংকেত বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে সতর্ক সংকেত দেয়।

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় অজ্ঞান হয়ে যাওয়াকে বলে ‘ভ্যাসোভ্যাগাল সিনকোপ’। নতুন প্রযুক্তিটি অজ্ঞান হওয়ার ৫ মিনিট আগে ৮০ শতাংশেরও বেশি নির্ভুলতার সঙ্গে পূর্বাভাস দিতে পেরেছে।

এ গবেষণার নেতৃত্বদানকারী কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক জুনওয়ান চো বলেছেন, “অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার কারণে রোগীরা প্রায়ই পড়ে গিয়ে আঘাত পান। অনেক ক্ষেত্রে তা হাড় ভাঙা বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের মতো মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পাওয়া আগাম সতর্কতা রোগীদের নিরাপদ অবস্থানে যাওয়ার বা সাহায্য চাওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেবে, যা পরবর্তী দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাবে।”

গবেষকরা রোগীদের হৃদস্পন্দনের তারতম্যের তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘গ্যালাক্সি ওয়াচ ৬’-এর ‘ফোটোপ্লেথিসমোগ্রাফি’ পিপিজি সেন্সর ব্যবহার করেছেন। এরপর এআই অ্যালগরিদমের মাধ্যমে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা সম্ভব হয়েছে, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি অজ্ঞান হতে যাচ্ছেন কি না।

বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত কোনো স্মার্টওয়াচ এবারই প্রথম অজ্ঞান হওয়ার আগাম পূর্বাভাস দিতে পেরেছে।

স্যামসাংয়ের স্বাস্থ্য বিষয়ক গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের প্রধান জংমিন চোই বলেছেন, “কীভাবে পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি স্বাস্থ্যসেবাকে ‘অসুস্থ হওয়ার পরের সেবা’ থেকে ‘প্রতিরোধমূলক সেবার’ মডেলে রূপান্তরে সাহায্য করতে পারে তার চমৎকার উদাহরণ এই গবেষণাটি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন সব প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যা ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাস্থ্যকর করতে সাহায্য করবে।”

এখন এ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা তাদের স্মার্টওয়াচ ও অন্যান্য পরিধানযোগ্য ডিভাইসে যোগের পরিকল্পনা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রযুক্তি জায়ান্টটি।

Scroll to Top