যেন মাথায় ভেঙ্গে পরলো আস্ত আকাশ

যেন মাথায় ভেঙ্গে পরলো আস্ত আকাশ

জাহিদ ইকবাল : একটি ছবি, একটি হৃদয় চুরমার হওয়ার নীরব আর্তনাদ, মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার গল্প। ছবিটিতে যে শিশুটিকে দেখা যাচ্ছে, তার সামনে তার বাবার নিথর দেহ, একটি কফিনে শায়িত। আর সে অপেক্ষা করছে জানাজার নামাজের।

হাজী সাদিকুর রহমান সাদেক হুজুর

হ্যাঁ, আজ দুপুরেই তার প্রিয় বাবা হাজী সাদিকুর রহমান সাদেক হুজুর ইন্তেকাল করেছেন। শিশুটির নাম আয়ান, বয়স মাত্র পাঁচ বছর। এই কচি বয়সে মৃত্যু কী জিনিস, তা হয়তো তার পূর্ণাঙ্গ ধারণার বাইরে। কিন্তু চোখের সামনে বাবার লাশ রেখে যখন সে কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে, তখন তার শরীরের ভঙ্গিমা আর অভিব্যক্তি স্পষ্ট বলে দিচ্ছে—তার মাথায় যেন সত্যি সত্যি এক বিশাল আকাশ ভেঙে পড়েছে। আপনারা যদি একটু থমকে দাঁড়িয়ে ছবিটির দিকে তাকান, তবে বুঝতে পারবেন এই দৃশ্যের গভীরতা কতটা তীব্র, কতটা মর্মভেদী। ছবিটির দিকে তাকালে আমার কথার সাথে একমত না হয়ে আপনারা কিছুতেই পারবেন না। সামনে বাবার লাশের কফিন, আর তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ছোট আয়ান দুই হাত দিয়ে নিজের মাথা চেপে ধরে আছে। আহ্! একটু ভেবে দেখুন তো, এই দৃশ্য দেখে বুকের ভেতরটা কেমন করে ওঠে!

​কার কেমন লাগে আমি জানি না, কিন্তু এই ছবিটি দেখার পর আমার হৃদয় ভেঙে যেন তছনজ হয়ে গেছে। ছবি দেখে আমি কোনোভাবেই নিজেকে সামলাতে পারিনি। বুকের ভেতর থেকে এক অমানুসিক কান্না ঠেলে এসেছে, হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেছি। কোনোভাবেই যেন এই নিষ্পাপ কচি শিশুটির অব্যক্ত কষ্ট ও তীব্র যন্ত্রণা সহ্য করতে পারছি না। মন থেকে বারবার কেবল একটি প্রার্থনাই বের হয়ে আসছে—আল্লাহ পাক যেন মরহুমের পরিবারের সর্বস্তরের মানুষকে এই বিশাল শোক সহ্য করার তাওফিক দান করেন, আয়ানকে তাঁর বিশেষ রহমতের চাদরে আগলে রাখেন।

​পৃথিবীতে কত শত ছবি প্রতিদিন আমাদের চোখের সামনে আসে এবং চলেও যায়। কিছু ছবি আমাদের ক্ষণেকের জন্য হাসায়, কিছু ছবি আনন্দ দেয়, আবার কিছু ছবি স্মৃতির খাতায় জমা হয়ে থাকে। কিন্তু মাঝেমধ্যে এমন কোনো এক বিরল দৃশ্য বা আলোকচিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা বাস্তব জীবনের ক্যানভাসে ভেসে ওঠে, যা দেখার পর মানুষের বুকের ভেতরটা মুহূর্তের মধ্যে শূন্য হয়ে যায়। চোখের কোণে জমা হয় শ্রাবণের অঝোর ধারা, আর সমস্ত চেতনা জুড়ে নেমে আসে এক অবর্ণনীয় স্তব্ধতা।

সম্প্রতি ছড়িয়ে পড়া এই ছবিটি তেমনই এক মহা-বেদনাবিধুর আলেখ্য, যা হাজার হাজার হৃদয়কে এক লহমায় দুমড়ে-মুচড়ে ছারখার করে দিয়েছে।

​ছবিটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে একটি স্টিলের ফ্রেমে গড়া জানাজার খাটিয়া বা কফিন। কফিনের ওপরে অতি সুন্দর ক্যালিগ্রাফিতে লেখা ‘আল্লাহ’ নাম অঙ্কিত গিলাফ ঢাকা দেওয়া। আর সেই কফিনের ভেতরে চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন একজন প্রবীণ ও শ্রদ্ধেয় মানুষ—হাজী সাদিকুর রহমান সাদেক হুজুর।

আজ দুপুরেই তিনি এই মায়াময় নশ্বর পৃথিবীর সমস্ত বাঁধন কেটে পাড়ি জমিয়েছেন এক অনন্ত ও অপরিবর্তনীয় গন্তব্যে। কফিনের ঠিক চারপাশে দাঁড়িয়ে আছেন প্রবীণ ও নবীন অনুরাগী, আলেম-ওলামা এবং নিকটাত্মীয়েরা। কেউ হয়তো মাইকে বয়ান করছেন, কেউ বা বিষণ্ণ বদনে দাঁড়িয়ে আছেন শেষ বিদায়ের মোনাজাত ও জানাজার নামাযের অপেক্ষায়। কিন্তু এই সমস্ত আয়োজনের মাঝে, শত শত প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ভিড়ে, যার ওপর গিয়ে সবার দৃষ্টি থমকে যায় এবং হৃদয়কে প্রচণ্ড এক ধাক্কায় চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয়, সে হলো এই পাঁচ বছরের আয়ান।

​আয়ানের পরনে সুন্দর টুপি, পাজামা-পাঞ্জাবি এবং একটি খয়েরি রঙের ভেস্ট বা জ্যাকেট। কিন্তু যে দৃশ্যটি একজন মানুষের আত্মাকে পর্যন্ত কাঁপিয়ে তোলে, তা হলো তার হাতের অবস্থান। আয়ান তার দুটি কচি হাত দিয়ে নিজের মাথাটা শক্ত করে চেপে ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। মাত্র পাঁচ বছরের একটি শিশু, যার এখনো ঠিকমতো পৃথিবীর জটিল নিয়মকানুন শেখাই হয়ে ওঠেনি, সে কি সত্যি জানে মৃত্যুর গভীরতা কতটা ভয়াবহ? সে কি জানে, যে বাবা তাকে প্রতিদিন হাত ধরে হাঁটাতে নিয়ে যেতেন, যার গলার একটু আওয়াজ পেলেই সে আনন্দিত হয়ে ছুটে যেত, যার বুকের উষ্ণতায় সে ঘুমিয়ে পড়ত—সেই পরম ভালোবাসার বাবা আর কোনোদিন চোখ মেলবেন না? সে কি বুঝতে পারছে, এই যে কাঠের ও ধাতুর কফিনের ভেতর কালো কাপড়ে ঢেকে রাখা মানুষটি, তিনি আর কখনো তাকে কপালে ভালোবাসার চুমু দেবেন না, কখনো আর ‘আয়ান’ বলে ডাকবেন না?

​হয়তো পাঁচ বছর বয়সে মৃত্যুর তাত্ত্বিক সংজ্ঞা বোঝানো যায় না। সে হয়তো জানে না ‘ইন্তেকাল’ বা ‘ইন্তেকালের পরের জীবন’ ঠিক কেমন। কিন্তু মানবমন এমন এক অলৌকিক ইন্দ্রিয় নিয়ে জন্মে, যা ভাষার আগেই অনুভূতিকে চিনে ফেলে। অবচেতন মনেই কচি আয়ান বুঝতে পেরেছে, তার ছোট্ট ও সুন্দর পৃথিবীটায় আজ বড্ড বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে গেছে। চারপাশের মানুষের থমকে যাওয়া মুখ, বয়স্কদের ভারী দীর্ঘশ্বাস, কান্নার করুণ গুঞ্জন আর কালো কাপড়ে ঢাকা বাবার এই নিথর কফিন—সবকিছু মিলে তার কচি মনে এক অদৃশ্য কিন্তু অপরিসীম চাপ সৃষ্টি করেছে। সেই প্রচণ্ড মানসিক ও অনুভূতির ভার সামলাতে না পেরেই যেন শিশুটি নিজের দুটি হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরেছে, যেন কোনোমতে তার মাথার ওপর ভেঙে পড়া আকাশটাকে ধরে রাখার অসামান্য কিন্তু ব্যর্থ চেষ্টা করছে।

​যেমন করে কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ জীবনের কঠিনতম ও সবচেয়ে বড় বিপদের মুখোমুখি হলে হতবিহ্বল হয়ে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে, ঠিক তেমনি এই অবুঝ শিশুটিও এক সীমাহীন শূন্যতা ও শোকের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মাথায় হাত দিয়ে থমকে গেছে। মানুষের মনের কান্না যখন ভাষার সীমানা অতিক্রম করে যায়, তখন ভাষা আর কাজ করে না; শরীরটাই হয়ে ওঠে সেই অব্যক্ত বেদনার একমাত্র রূপক।

আয়ানের ওই একটি ভঙ্গি যেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত শোককে এক সুতোয় গেঁথে ফেলেছে। ​কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ভাবলে বুক কেঁপে ওঠে—কথা আছে, “বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ সবচেয়ে ভারী।” এটি পৃথিবীর সবচেয়ে করুণ দৃশ্যগুলোর একটি। কিন্তু এই ছবিতে যেন ঠিক তার বিপরীত এক নির্মম নাটকের মঞ্চায়ন ঘটেছে। এখানে এক কচি সন্তানের মাথার ওপর চেপে বসেছে বাবার অকালমৃত্যুর হিমশীতল ও বিশাল পাহাড়। কোনো প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ যদি তার আপনজনকে হারায়, তবে সে বুক চাপড়ে কাঁদতে পারে, চিৎকার করে নিজের মনের ভেতর জমে থাকা দুঃখকে হালকা করতে পারে। স্বজনেরা তাকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেয়, আশ্বাসের কথা বলে। কিন্তু আয়ানের মতো পাঁচ বছরের একটি শিশুর শোক যে একেবারেই অব্যক্ত! সে তো তার হৃদয়ের তড়পানো অনুভূতিগুলোকে শব্দে রূপ দিতে পারে না। সে বলতে পারে না, “বাবা, তুমি এভাবে কেন শুয়ে আছ? তুমি কেন উঠছ না? আমাকে আগের মতো কোলে নিচ্ছ না কেন?”

​আয়ানের এই যে কথা বলতে না পারা, চিৎকার করে কাঁদতে না পারা—এই বোবা যন্ত্রণাই যেন হাজারটা উচ্চস্বরের চিৎকারের চেয়েও বহু গুণ বেশি করুণ ও বিষাদময়। সে কেবল চুপচাপ নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে থেকে নিজের মাথায় হাত দিয়ে সমস্ত কষ্ট সহ্য করার চেষ্টা করছে। তার এই নিথর ও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকা দৃশ্যটি যেন প্রতিটি অনুভূতির মানুষ, প্রতিটি মা-বাবার হৃদয়কে ভেতর থেকে ছিঁড়ে ফেলে।

​এই চরম সত্যটি স্বীকার করতেই হবে, এই ছবিটি দেখার পর কোনো সুস্থ ও সহানুভূতিশীল মানুষের পক্ষে চোখের পানি ধরে রাখা একেবারেই অসম্ভব।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বা প্রত্যক্ষভাবে যখনই মানুষ এই ছবিটির মুখোমুখি হয়েছে, সবার হৃদয়ে একই সাথে হাহাকার জেগে উঠেছে। ছবিটির দিকে চোখ পড়া মাত্রই চোখের পাতা ভিজে উঠেছে অঝোর ধারায়, বুক চিরে বের হয়ে এসেছে সুগভীর দীর্ঘশ্বাস। অসংখ্য মানুষ হাউমাউ করে কেঁদেছেন, নিজেদের অজান্তেই সৃষ্টিকর্তার কাছে হাত তুলে দোয়া করেছেন—”হে পরম দয়াময়, এই কচি বাচ্চাটিকে তুমি কীভাবে এই বিশাল শোক বহন করার ক্ষমতা দেবে?”

​আয়ানের এই একটামাত্র আলোকচিত্র যেন গোটা মানবজাতির সহানুভূতি ও সুপ্ত মানবতাবোধকে এক ধাক্কায় জাগিয়ে দিয়েছে। যারা অতীতে নিজেদের পিতাকে হারিয়েছেন, তারা যেন নিজেদের শৈশবের সেই পিতৃহারা হওয়ার তীব্র বেদনা নতুন করে অনুধাবন করেছেন। আর যারা নিজে একজন বাবা, তারা নিজেদের অবুঝ সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে শিউরে উঠেছেন—যদি কোনো দিন আমার সন্তানকে এমন নির্মম পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়! পৃথিবীর কোণে কোণে ছড়িয়ে থাকা মানবের এই সার্বজনীন যে আকুলতা ও সহানুভূতি, তা-ই প্রমাণ করে আয়ানের এই নীরব রূপক কান্না কত গভীরভাবে সমাজকে নাড়া দিয়েছে।

​একটি শিশুর জীবনে বাবার উপস্থিতি এবং গুরুত্ব কী, তা কোনোদিন লিখে বা মুখে বলে শেষ করা যাবে না। বাবা হলেন সেই বটবৃক্ষ, যার প্রকাণ্ড ছায়ায় একটি শিশু রোদ, বৃষ্টি, ঝড় কিংবা যেকোনো বিপদ থেকে নিশ্চিন্তে আশ্রয় পায়।

বাবা থাকা মানেই হলো কোনো ভয় ছাড়া জীবনকে দেখার এক সাহস, অবাধ্য আবদার করার এক নিরাপদ ঠিকানা। আজ দুপুর পর্যন্ত আয়ানের সেই শক্ত ও বিশ্বস্ত বটবৃক্ষটি জীবন্ত ছিল। সে জানত, যেকোনো আনন্দ বা কষ্টে সে তার বাবার বুকে মাথা গুঁজতে পারবে। কিন্তু এই জানাজার মুহূর্তটি আসার সাথে সাথেই আয়ানের মাথার ওপর থেকে সেই সুশীতল বটবৃক্ষ চিরতরে হারিয়ে গেল।

​আয়ান যখন কাল বা পরশু সকালে ঘুম থেকে উঠবে, সে হয়তো আগের মতো বাবাকে খুঁজবে। যখন সে আরও কিছুটা বড় হবে, স্কুলে ভর্তি হবে এবং অন্য সহপাঠীদের দেখবে তাদের বাবার হাত ধরে হাসিমুখে স্কুলে আসতে—তখন কি সে আবার আজকের এই দিনটির কথা মনে করবে? সে কি সেদিন অনুধাবন করতে পারবে, যে তারিখে এই ছবিটি তোলা হয়েছিল, সেদিনই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ও চিরন্তন আশ্রয়টি তাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিল? এই চিন্তাটি যতই মাথায় আসে, ততই হৃদয় কেঁপে ওঠে। যে শিশুটি এখনো ভালো করে জীবনকেই চিনতে শিখল না, তাকেই জীবনের সবচেয়ে বড় ও নির্মম শোকের পাঠ নিতে হলো।

​তবে আমরা বিশ্বাস করি, পরম করুণাময় আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে তার সহ্যক্ষমতার বাইরে কষ্ট দেন না। মৃত্যু জীবনের এক চিরন্তন ও অপরিহার্য ধ্রুব সত্য। এই পৃথিবীর প্রতিটি জীবকেই একদিন না একদিন মৃত্যুর পেয়ালায় চুমুক দিতে হবে—এটাই পরম বাস্তবতা।

মরহুম হাজী সাদিকুর রহমান সাদেক হুজুর তাঁর পার্থিব জীবনের সংক্ষিপ্ত সফর সমাপ্ত করে রবের আহ্বানে সাড়া দিয়ে চলে গেছেন। আমরা অত্যন্ত বিনম্র হৃদয়ে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে মরহুমের রুহের মাগফিরাত ও উচ্চ মাকাম কামনা করি। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর সমস্ত দ্বীনি খেদমত ও নেক আমল কবুল করে তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন এবং তাঁর সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন।

​কিন্তু তার চেয়েও বড় আকুল প্রার্থনা এখন অবুঝ আয়ান এবং তার শোকস্তব্ধ পরিবারের জন্য। হে আমাদের রাব্বুল আলামীন, তুমি আল-লতিফ, তুমি পরম করুণাময় ও অসীম দয়ালু। এই পাঁচ বছরের অবুঝ শিশু আয়ানের মনের ভেতর জমে থাকা অব্যক্ত কষ্ট ও যন্ত্রণা তুমি ছাড়া আর কে ভালো বুঝবে? যে পাহাড়সম বিষাদ আজ তার কচি মাথায় চেপে বসেছে, তা সহ্য করার অসীম ধৈর্য ও সক্ষমতা তুমি তাকে এবং তার পরিবারকে দান করো।

​হে আল্লাহ, তুমি আয়ানের সবচেয়ে বড় অভিভাবক হয়ে যাও। তাকে তোমার বিশেষ রহমতের চাদরে মুড়িয়ে রাখো। তাকে সুস্থ, দীর্ঘায়ু ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলো, যেন সে তার বাবার রেখে যাওয়া সুনাম ও দ্বীনি আদর্শকে সারা জীবন ধারণ করতে পারে। তার ভবিষ্যৎ জীবন যেন কখনো কোনো অভাব বা অভিভাবকহীনতার কষ্টের মুখোমুখি না হয়। মরহুম সাদেক হুজুরের পরিজনদের তুমি শোক সইবার অগাধ তাওফিক দাও।

​সময়ের নিয়মেই হয়তো এই আলোকচিত্রটি একদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গতিশীল ধারায় নিচে নেমে যাবে, হারিয়ে যাবে নানা নতুন সংবাদের ভিড়ে। ডিজিটাল দুনিয়ার পাতায় হয়তো এই ছবি আর বারবার ভেসে উঠবে না। কিন্তু যারা আজ একবার এই ছবিটির দিকে মনোযোগ দিয়ে ও অনুভূতির সাথে তাকিয়েছেন, তাদের হৃদয়ের ক্যানভাসে আয়ানের এই দু হাত দিয়ে মাথা চেপে ধরে দাঁড়িয়ে থাকার দৃশ্যটি সারাজীবনের জন্য খোদাই হয়ে থাকবে।

​এটি কেবল একটি সাধারণ ডিজিটাল স্থিরচিত্র নয়—এটি হলো এক অবুঝ সন্তানের পরম শূন্যতা ও নিষ্পাপ বেদনার জীবন্ত স্মারক, এটি হলো এই নশ্বর পৃথিবীর ক্ষণস্থায়িত্বের এক চিরন্তন দলিল।

​প্রিয় ছোট আয়ান, তুমি হয়তো আজ বুঝতে পারছ না তোমার জীবনে কত বড় এক ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু জেনে রেখো, তোমার এই কচি মাথায় দুই হাত রেখে দাঁড়িয়ে থাকার নীরব ছবিটি আজ লাখো মানুষের চোখের জলে ভেজানো এক অক্ষয় স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা তোমার সহায় হোন, তোমার জীবনের প্রতিটি মোড়ে, প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি তোমাকে তাঁর রহমতের ডানা দিয়ে রক্ষা করুন। আমীন।

লেখক পরিচিত: সিনিয়র সাংবাদিক ও আহবায়ক,
নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি।

Scroll to Top