ভারতীয় চলচ্চিত্রের বর্ষীয়ান অভিনেতা প্রদীপ রাওয়াতের মৃত্যুতে শোকাহত ভক্ত ও সহকর্মীরা। ৭৪ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াই শেষে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তবে পর্দায় তাঁর শক্তিশালী খলচরিত্রগুলো তাঁকে আজীবন দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখবে।
হিন্দি, তামিল ও তেলেগু চলচ্চিত্রে সমান দক্ষতায় অভিনয় করা প্রদীপ রাওয়াত বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন ভয়ংকর খলনায়কের চরিত্রে। তাঁর অভিনীত কয়েকটি সিনেমা ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
গজনি (তামিল ও হিন্দি)
প্রদীপ রাওয়াতের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় চরিত্র নিঃসন্দেহে ‘গজনি ধর্মাত্মা’। সূরিয়া অভিনীত তামিল সংস্করণ এবং আমির খান অভিনীত হিন্দি রিমেক—দুই চলচ্চিত্রেই নির্মম এই খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের মনে স্থায়ী ছাপ ফেলেন।

লগান
অস্কার মনোনীত এই সিনেমায় তিনি অভিনয় করেন দেবা সিং সোধি চরিত্রে। ভুবনের দলের সাহসী ও দৃঢ়চেতা শিখ ক্রিকেটারের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়।

সাই
এস এস রাজামৌলি পরিচালিত এই তেলেগু চলচ্চিত্রে ‘ভিক্ষু যাদব’ চরিত্রে তাঁর ভয়ংকর অভিনয় তাঁকে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় খলনায়কে পরিণত করে।

সরফারোশ
আমির খান অভিনীত এই আলোচিত ক্রাইম থ্রিলারে ‘সুলতান’ চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি ছবির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেয়। সহ-খলনায়ক হলেও তাঁর অভিনয় ছিল দর্শকনন্দিত।

ছত্রপতি
প্রভাস অভিনীত এস এস রাজামৌলির এই সিনেমায় ‘বাজ্জি’ চরিত্রে অভিনয় করেন প্রদীপ রাওয়াত। ভয়ংকর উপস্থিতি ও শক্তিশালী অভিনয়ে তিনি ছবির অন্যতম স্মরণীয় নেতিবাচক চরিত্র হয়ে ওঠেন।

বীরাম
অজিত কুমার অভিনীত এই তামিল ছবিতে ‘ভানাঙ্গামুদি’ চরিত্রে প্রতিপক্ষের ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। তাঁর দৃঢ় পর্দা উপস্থিতি ছবির অ্যাকশনধর্মী আবহকে আরও শক্তিশালী করে।

সাবারি
ক্যারিয়ারের আরেকটি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র ‘সাবারি’। এখানেও নেতিবাচক চরিত্রে নিজের স্বাক্ষর রেখে গেছেন এই অভিনেতা।

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য স্মরণীয় চরিত্র উপহার দিলেও ‘গজনি’, ‘সাই’, ‘সরফারোশ’ ও ‘লগান’-এর মতো সিনেমাগুলোই প্রদীপ রাওয়াতকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম কিংবদন্তী খলনায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তাঁর প্রয়াণে চলচ্চিত্র অঙ্গন হারাল এক শক্তিশালী অভিনয়শিল্পী, তবে তাঁর সৃষ্টি করা চরিত্রগুলো দর্শকের মনে বেঁচে থাকবে বহু বছর। টাইমস নাউ



