যে ৫ কারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন ‘খায়’ না | চ্যানেল আই অনলাইন

যে ৫ কারণে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন ‘খায়’ না | চ্যানেল আই অনলাইন

অনেক টানাপোড়েন, বিতর্ক আর বৃষ্টির চোখরাঙানি পেরিয়ে ম্যাচ হল নির্বিঘ্নে। তবে লড়াই জমল না একটুও। ভারতের কাছে আইসিসির টুর্নামেন্টে আরও একবার হারল পাকিস্তান। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অবশ্য বরাবরই পাকিস্তানের বিপক্ষে একচেটিয়া দাপট ভারতের। এপর্যন্ত ৯ দেখায় ভারত জিতল ৮টিতে, পাকিস্তানের জয় একটি। এমন বাস্তবতায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের ক্রিকেটীয় উত্তাপ যেন এখন শুধুই সোনালী অতীত, এবং চরম একপেশে। দেখে নেয়া যাক যে পাঁচ কারণে মহারণের ম্যাচ এখন হজম দূরহ!

সস্তার তিন অবস্থা ও ‘কমন’ শো!
আগে একটা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের জন্য অন্তত বছর চারেক অপেক্ষা করতে হতো। দুদলের দ্বিপক্ষীয় সিরিজও হতো কম। আর এখন? এক এশিয়া কাপ আসরেই তাদের দেখা হয়ে যায় ৩ বার। সেটিও মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে তিনটা ম্যাচ। কথায় আছে সস্তার তিন অবস্থা, এটাই আর কী। বিশ্বাস না হলে মাত্র ৫ মাস আগে অর্থাৎ, গত সেপ্টেম্বরে হওয়া এশিয়া কাপের সূচিতে একটু চোখ বুলিয়ে নিন দয়া করে।

ম্যাচের ভেতর প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুবই একপেশে
যে মাঠেই খেলা হোক, দিনে হোক বা রাতে, ম্যাচের ফলাফল ভারতের পক্ষেই যাচ্ছে। এটিই মোটামুটি অলিখিত নিয়ম বানিয়ে ফেলেছে টিম ইন্ডিয়া। এই যে গত এশিয়া কাপের কথা, দশ দিনের ভেতর তিন তিনবার ভারত জিতেছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের রেকর্ড আরও শোচনীয়। ২০২১ বিশ্বকাপে ছাড়া আর জয় নেই পাকিস্তানের।

আগ্রাসন এবং উত্তেজনার ছিটেফোঁটাও নেই
আগে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সময় রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যেত। স্কুল ফাঁকি বাড়ত। খেলার সময় প্রাইভেট টিচার থাকলে নানা বাহানায় পড়া বাতিল হতো। এগুলো বাদ- মাঠের উত্তেজনার কথা একপাশে থাকল। দুদেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকে, কিন্তু দুদলের ক্রিকেটারদের যেন কিছুই ছুঁয়ে যায় না।

আগে মাঠের খেলার বাইরেও একটা জাতিগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা বা জাতিগত চেতনা কাজ করতো। মনে করুন, ২২ গজে আমির সোহেল আর ভেঙ্কটেশ প্রসাদের সেই লড়াই, মনে করা যেতে পারে শোয়েব আখতার ও শচীন টেন্ডুলকার কিংবা সৌরভ গাঙ্গুলি আর ওয়াসিম আকরামের বাঁহাতি লড়াই। সেই রেশারেশি বা আগ্রাসনের কিছুই নেই এখন।
সেই মাঠের লড়াইগুলো শুধুই অতীত। এখন ম্যাচ হার-জিতে প্লেয়ারদের যেন কিছুই যায় আসে না। খেলোয়াড়দের মধ্যে আগের কোন আগ্রাসন গত দশ বছরে কয়বার দেখা গেছে?

মিডিয়ার অতিরিক্ত হাইপ উল্টো কাজ করছে
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনা কেবল মিডিয়ার! ম্যাচের একমাস আগে থেকেই ‘মহারণ’ ‘যুদ্ধ’ ‘হাইভোল্টেজ’ ইত্যাদি নানা প্রকার চমকপ্রদ শিরোনাম আমরা দেখি। এসব শব্দ ম্যাচ নিয়ে মানুষের আগ্রহ আকাশে তুলে দেয়। এরপর যখন দেখা যায় ভারতের ১৯০ রাতের জবাবে পাকিস্তান ৯০ রানে অলআউট, তখন হিতেবিপরীত হয়। দর্শক গালিও দিয়ে বসে। মাঠে সেই পর্যায়ের লড়াই না হলে দর্শক হতাশ হবেই। আর বারবার হতাশা মানেই আগ্রহ কমে যাওয়া।

ক্রিকেট বদলেছে, দর্শকও বদলেছে
এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটই এরচেয়ে বিশগুণ বেশি উত্তেজনা, জমজমাট ফিনিশিং, তারকায় ঠাসা। প্রতিদিনই বড় ম্যাচ, বড় তারকার ছড়াছড়ি। বিপরীতে এই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে কীসের উত্তেজনা কীসের তারকা। পাকিস্তানের পাগলা ফ্যান একজনকে জিজ্ঞেস করলে সেরা একাদশের সবার নামই বলতে পারে না এখন! কেন এই ম্যাচ বিশেষ হবে? কারণ এই ম্যাচ আর পুরো আবেগ দখল করে নিতে পারছে না। খুবই সত্যি কথা। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন অনেক ভিড়ের ভেতর আরেকটা ম্যাচ মাত্র।

সবমিলিয়ে এই কঠিন সত্যটা পরিষ্কার, ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ এখন আর আবেগের নয়, এটা শুধুই একটা ইভেন্ট মাত্র। দেখা হয় অভ্যাসে, উত্তেজনায়, নয়ত কর্মের খাতিরে। এ কারণেই আগের মতো কাউন্টডাউন নেই, বুক কাঁপানো অপেক্ষা নেই। ম্যাচ হয় কিন্তু অনুভবটা আসে না আর সে পথ ধরে।

Scroll to Top