যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেন ইরানে হামলা করল

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কেন ইরানে হামলা করল

‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’ ঘোষণার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র শিল্প মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া এই অভিযানের লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের নৌবাহিনী নির্মূল করতে যাচ্ছি।’

ট্রাম্পের বক্তব্যের মূল কথা—যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করেছে, যা ‘বিশাল ও চলমান’। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান সরকারের দিক থেকে আসা ‘আসন্ন হুমকি’ মোকাবিলাই মূল লক্ষ্য।

ট্রাম্প এই অভিযানের সামরিক উদ্দেশ্য তুলে ধরেছেন এভাবে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধ্বংস করা। ইরানের নৌবাহিনীকে নিশানা করা। এ অঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ছত্রভঙ্গ করা। ইরান যেন কোনোভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা।

ট্রাম্প ইরানের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের জন্য একই সঙ্গে সতর্কতা ও প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, তাঁরা অস্ত্র সমর্পণ করলে দায়মুক্তি পাবেন। কিন্তু তা না করলে তাঁদের ‘নিশ্চিত মৃত্যু’র মুখোমুখি হতে হবে। মার্কিন বাহিনীতেও হতাহত হতে পারে বলে স্বীকার করেছেন তিনি।

রয়টার্স একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযান কয়েক দিন চালানোর পরিকল্পনা করছে। ওয়াশিংটন থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক অ্যালান ফিশার জানিয়েছেন, ট্রাম্পের মন্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে তিনি ইরানে একটি ‘অভ্যুত্থানের ক্ষেত্র’ তৈরি করতে চাইছেন। ঠিক ৭৩ বছর আগে দেশটিতে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে যেভাবে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)।

অ্যালান ফিশার বলেন, ‘তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এটি আগেও করেছে। এবার তারা সিআইএর মাধ্যমে গোপনে না করে সরাসরি অস্ত্র ও বোমা ব্যবহার করে এটা করছে। এটি স্পষ্ট যে এটা একটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অভিযান হতে যাচ্ছে, যেখানে ট্রাম্প প্রাণহানির ঝুঁকিও মেনে নিয়েছেন।’

Scroll to Top