
যুক্তরাষ্ট্র ইরানে নতুন করে হামলা চালালে নতুন সক্ষমতার অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়েছে তেহরান। সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি এ হুমকি দেন বলে দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানিয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, ‘নতুন করে আগ্রাসন হলে আমরা অবশ্যই যুদ্ধের অস্ত্র ও ভূগোল দুটিই পরিবর্তন করব।’
তবে নতুন অস্ত্র বলতে কী বোঝানো হয়েছে বা ইরান নতুন করে কোন কোন এলাকায় হামলা চালাতে পারে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে তিনি সম্ভবত রাজি হতে পারেন।
রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বৈঠকের বিষয়ে ফক্স নিউজের প্রধান বৈদেশিক সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্টকে ট্রাম্প বলেন, তিনি এ ধরনের বৈঠকের বিষয়ে সম্ভবত আগ্রহী।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলতি অধিবেশনের মধ্যে এমন বৈঠকের সম্ভাবনা প্রায় সাত মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের অবসানের বিষয়ে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এই সংঘাতের কারণে ইরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করেছে। পাশাপাশি ইরানের মিত্র ইয়েমেনের হুথিরা গুরুত্বপূর্ণ একটি পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনে হামলা চালিয়েছে এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে হামলার হুমকি দিয়েছে।
এর প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে। বেড়েছে তেল ও ডিজেলের দাম এবং মূল্যস্ফীতির চাপ।
তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তার ভাষায়, বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া, অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংস হতে দেওয়া অথবা একটি চুক্তি করা।
এরপর তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, তাদের ভালো আচরণ করতে হবে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হবে বলে তিনি মনে করেন না। ওই সময়ের আগে তেলের দামও কমবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
হরমুজ ও ইয়েমেনে উত্তেজনা
সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় তেলের দাম এক সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়। একই সময়ে সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি পুনরুদ্ধারের লক্ষণ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমিয়েছে।

ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে হুথিদের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘হুথিরা আমাদের ফোন করেছে এবং তারা আমাদের সঙ্গে লড়াই করতে চায় না।’
তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সংঘাতে জড়াতে না দেওয়ার পাশাপাশি অধিকাংশ জাহাজকে চলাচলের সুযোগ দিচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন।
তবে সপ্তাহান্তে পরিস্থিতি আবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুথিরা জানায়, শনিবার তারা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের সংবেদনশীল স্থাপনা এবং লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবুর একটি আরামকো স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
এদিকে দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনেও সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে হুথিদের সংঘর্ষ বেড়েছে। এতে হুথিরা কয়েকটি এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক টাইমস সোমবার জানায়, রোববার সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে ইয়েমেনে হুথিদের ওপর হামলায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প বিবেচনা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি তাতে সম্মতি দেননি বলে সংবাদপত্রটি জানিয়েছে।
নিউ আমেরিকার ইয়েমেন ও উপসাগরীয় অঞ্চলবিষয়ক গবেষক অ্যাডাম ব্যারন পরিস্থিতিকে খুবই পরিবর্তনশীল বলে মন্তব্য করেছেন। সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুথিদের লড়াইয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তায় পাঠাবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দেওয়া যায় না বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।
এদিকে রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১৭টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এক সপ্তাহ আগে এ সংখ্যা ছিল ৩৭টি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদক দেশগুলো ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখেও ট্যাংকারে করে তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে।
ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সপ্তাহে মোট ২২টি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি দিয়ে বের হয়েছে। এর মধ্যে সৌদি আরব ও ইরাকের অংশ ছিল ৪৩ শতাংশ করে।
অন্যদিকে বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে অন্তত ৫১টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর মধ্যে সপ্তাহান্তে ৩৩টি জাহাজ ওই জলপথ ছেড়ে গেছে। আগের সপ্তাহান্তে এ সংখ্যা ছিল ৫৭টি।
এদিকে ইয়েমেনের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রোববার সৌদি আরব আল-জাওফ গভর্নরেটের খাব্ব ওয়াশ-শা’আফ এলাকায় টেলিযোগাযোগ টাওয়ার লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে চারজন টেলিযোগাযোগকর্মী নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন বলে মন্ত্রণালয়টির দাবি।
মন্ত্রণালয়টি বলেছে, টেলিযোগাযোগ টাওয়ারের মতো জরুরি অবকাঠামোতে হামলা আন্তর্জাতিক ও মানবিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…