যুক্তরাজ্যের জন্য লিখিত সংবিধানের দাবি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের – DesheBideshe

যুক্তরাজ্যের জন্য লিখিত সংবিধানের দাবি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের – DesheBideshe


যুক্তরাজ্যের জন্য লিখিত সংবিধানের দাবি প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামের – DesheBideshe

লন্ডন, ৩ আগস্ট – যুক্তরাজ্যের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দেশের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট লিখিত সংবিধান প্রণয়নের পক্ষে মত দিয়েছেন। বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় ভিন্নভাবে পরিচালিত যুক্তরাজ্যে বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একক কোনো লিখিত দলিল নেই।

দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র বার্নহ্যাম তার সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন। লন্ডন থেকে এএফপি জানিয়েছে, সপ্তাহান্তে নিজের বিকেন্দ্রীকরণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় বার্নহ্যাম বলেন যে শেষ পর্যন্ত এটি একটি নতুন সাংবিধানিক কাঠামোর দিকেই ধাবিত হচ্ছে।

দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে তিনি লিখিত সংবিধানের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেও তিনি ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের সংস্কারের পক্ষে কথা বলে এসেছেন। বার্নহ্যামের মতে, মৌলিক বিষয়গুলো নিয়েও জনগণকে বর্তমানে বিতর্কে লিপ্ত হতে হচ্ছে।

সংবিধানের অভাব বিভিন্ন অঞ্চলকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষমতাহীন করে তুলছে বলে তিনি মনে করেন। বর্তমানে যুক্তরাজ্যের শাসনব্যবস্থা বিভিন্ন আইন, আদালত প্রদত্ত রায় এবং আন্তর্জাতিক চুক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হয়। লিখিত সংবিধানের এই দাবি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ জোরালো হয়েছে।

এর আগে ২০০৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন লেবার পার্টির গর্ডন ব্রাউন এই সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বার্নহ্যাম নিজেও ব্রাউন সরকারের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে শেষ হওয়া একটি দীর্ঘ পর্যালোচনার মাধ্যমে পার্লামেন্টারি কমিটি লিখিত সংবিধানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করলেও কোনো ঐকমত্য তৈরি হয়নি।

বার্নহ্যাম যদি এই উদ্যোগ এগিয়ে নেন তবে এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়ায় পরিণত হবে যার জন্য ব্যাপক জনপরামর্শ প্রয়োজন। গত শুক্রবার তিনি ঘোষণা করেছিলেন যে ইংল্যান্ডের আঞ্চলিক মেয়ররা তাদের এলাকা থেকে আদায় করা করের একটি অংশ রাখার সুযোগ পাবেন।

এটি মূলত লন্ডনভিত্তিক কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা থেকে ক্ষমতা সরিয়ে নেওয়ার একটি পদক্ষেপ। ১৯৯০ এর দশকের শেষের দিকে এডিনবরা, কার্ডিফ এবং বেলফাস্টে পৃথক আইনসভা প্রতিষ্ঠিত হলেও বিশেষজ্ঞরা মনে করেন ইংল্যান্ড এখনো ইউরোপের অন্যতম কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে রয়ে গেছে।

এস এম/ ৩ আগস্ট ২০২৬



Scroll to Top