মেটলাইফে সেই বিষাদগাঁথা স্মৃতি ও একদশক পর মেসির মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন | চ্যানেল আই অনলাইন

মেটলাইফে সেই বিষাদগাঁথা স্মৃতি ও একদশক পর মেসির মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তন | চ্যানেল আই অনলাইন

২০১৬ সালের ২৬ জুন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মঞ্চস্থ হয়েছিল লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ও বিষাদের এক গল্প। যেখানে একরাশ হতাশা নিয়ে আর্জেন্টিনা প্রায় হারাতে বসেছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলারকে। কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনকে বিদায় বলে দিয়েছিলেন মেসি। অবশ্য অভিমান ভেঙে পরে ফিরেছেন, দুবার জিতেছেন সেই কোপা শিরোপা। এরপর ২০২২ সালে ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে আর্জেন্টিনাকে উপহার দিয়েছেন বিশ্বকাপও। এবার আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে। সেখানে ফিরে এল একদশক আগের স্মৃতিও।

রোববার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত একটায় সেই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ভাগ্য যেন আবারও মেসিকে ফিরিয়ে এনেছে এখানে। রচনা হতে পারে এবার ভিন্ন কোন দৃশ্যপটের। যে মাঠ একদিন হয়ে উঠেছিল কান্না আর হতাশার প্রতীক, সেই মাঠ এখন হতে পারে তার ক্যারিয়ারের আরেকটি সোনালি অধ্যায়ের সাক্ষী।

মেটলাইফে কোপা আমেরিকার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে চিলির মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা, যাদের কাঁধে ছিল গোটা দেশের ২২ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর ভার। সেই ভারের সিংহভাগ চেপে বসেছিল মেসির কাঁধে। স্টেডিয়ামে থাকা ৮২ হাজার রেকর্ড দর্শকের সামনে আলবিসেলেস্তেরা নতুন করে আশায় বুক বেধেছিল। কিন্তু ১২০ মিনিটের গোলশূন্য লড়াইয়ের পর ম্যাচ যখন টাইব্রেকারে গড়ায়, ঘটে যায় অঘটন!

চিলির প্রথম শট ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। এরপর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম শটটি নিতে এগিয়ে আসেন মেসি। কোটি ভক্তকে স্তব্ধ করে মেসির নেয়া শট ক্রসবারের উপর দিয়ে উড়ে যায় গ্যালারিতে, পরে লুকাস বিগলিয়াও গোল করতে ব্যর্থ হলে ৪-২ ব্যবধানে হেরে টানা দ্বিতীয়বার কোপায় রানার্সআপ হয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।

টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিসের পর নিজেকে দোষী ভাবতে শুরু করেন মেসি। গ্যালারির স্তব্ধ আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কান্নার মাঝে মাঠে বিধ্বস্ত মেসিকে ক্যামেরাবন্দি করেন ফটোগ্রাফাররা। ম্যাচ শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরই আবেগাক্রান্ত মেসি অভূতপূর্ব এক ঘোষণা দিয়ে বিশ্বকে হতবাক করে বলেছিলেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে আমার সফর এখানেই শেষ।’ ৩০ বছর ছোঁয়ার আগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় বলে দিয়েছিলেন জাদুকর।

কিন্তু ফুটবল দেবতা হয়ত মেসির ভাগ্যে এক মহাকাব্যিক বৃত্ত পূরণ লিখে রেখেছিলেন। ১০ বছর আগে যে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে পেনাল্টি মিসের কান্নায় আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছিলেন, একদশক পর সেই একই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে তিনি পা রাখছেন ফুটবলের সর্বোচ্চ সম্মান- বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখার মিশনে।

মাঝের ১০ বছরে দৃশ্যপট বদলে গেছে সম্পূর্ণ। অবসর ভেঙে ফিরে এসে মেসি আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন দুবার কোপা আমেরিকা ও ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি। সমস্ত সংশয় দূর করে তিনি এখনও আর্জেন্টিনার ইতিহাসে অবিসংবাদিত নায়ক।

১০ বছর আগের সেই মেটলাইফ দেখেছিল মেসির চোখের জল আর বিদায়ের আকুতি, এবারের মেটলাইফ দেখতে চলেছে ৩৯ বছর বয়সী এক পরিপক্ব মেসির টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বজয়ী হতে চেষ্টার লড়াই। ১০ বছরের পুরনো সেই ঐতিহাসিক ক্ষত মেটলাইফের বুকেই মুছে দিয়ে মেসি ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেন কিনা, সেটাই অপেক্ষার। পারলে তিনি হবেন ফুটবল ইতিহাসের প্রথম অধিনায়ক, যিনি দুবার বিশ্বকাপ উঁচিয়ে ধরার কীর্তি গড়বেন।

Scroll to Top