ছফা: আপনারা কি নেই? আপনারা তো বাইরে নন। ধরেন, এই যে গান, গানের মধ্যে বিশ রকম গুণ আছে। রক্তগুণ, মাংসগুণ, এইডা গুণ, এইডা গুণ—সংস্কৃতে কত নাম যে দিছে। এই যে ইতিহাসের যুগের আগে মানুষের অবস্থা সুপ্ত ছিল, তারা অন্য প্রাণীর মধ্যে ছিল। আস্তে আস্তে সে যখন বিশিষ্ট হয়ে উঠছে, তার মধ্যে একটা বিশিষ্ট রকম চিজ রাখছে। সে একটি পর্যায়ে এসে আল্লাহ আবিষ্কার কইরা ফেলাইছে। একটা পর্যায়ে এসে তাদের মধ্যে পয়গম্বর বানিয়ে ফেলেছে। এখন যখন মানুষকে আপনি টোটালি দেখবেন, এই অভিজ্ঞতাগুলিকে আপনি মূল্য দেবেন। সংগীতটাই নেন না কেন। সে ‘সা’ স্বর আনছে গাধার আওয়াজ থেকে, ‘মা’ স্বর হচ্ছে ছাগলের। সংগীতটা যখন হয়, তখন সেইটা ছাগলের হয় না, গাধার হয় না, কাকের হয় না, কোকিলেরও হয় না। তখন এর একটা নিজস্ব সত্তা দাঁড়িয়ে যায়। মানুষের ভেতরে আছে একটা আগুন, যাকে বলা যায় প্রমিথিয়ন ফায়ার। সে সব সময় তার অতীতকে অস্বীকার করে। সে অতীতের যা কিছু গুণাগুণ, সেটা লেখ্য বর্ণমালার মাধ্যমে সামনে প্রবাহিত করে দেয়। তো, মানুষ শুধু এক জায়গায় দাঁড়িয়ে নেই, মানুষ তো ক্রমাগত চলছে। তার অভিজ্ঞতাগুলো চলছে। তার গবেষণাগুলো চলছে।


