
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের টেকসই নিরাপত্তা এই অঞ্চলের বাইরের কোনো শক্তি নির্ধারণ করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্দোনেশিয়ার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল টাউন হল ২০২৬’ অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ কথা বলেন।
আরাগচি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই নিরাপত্তা এই অঞ্চলের বাইরে থেকে চাপিয়ে দেওয়া যায় না। তিনি বলেন, বৃহৎ শক্তিগুলোর স্বার্থ যখন দাবি করে তখন আন্তর্জাতিক আইন উপেক্ষা করা হলে আইনের শাসন নিয়ে কথা বলার কোনো সুযোগ থাকে না। জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এসব প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা ও বৈধতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াটাই স্বাভাবিক।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা বা ‘মাল্টিল্যাটারালিজম’ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রয়োজন।
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকে না উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, প্রতিটি যুদ্ধের মূল্য যুদ্ধক্ষেত্রের বাইরেও বহুগুণ বেশি। যুদ্ধের ব্যয় করদাতাদের বহন করতে হয়। তবে সবচেয়ে বেশি মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। তাদের জীবন, রক্ত, ঘরবাড়ি, ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক আস্থা তৈরি, সহযোগিতা ও সম্মানের মাধ্যমে। বিদেশি শক্তির সামরিক উপস্থিতি এবং তাদের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে নয়।
এদিকে ইয়েমেনে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন তথ্য সামনে এসেছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ মারিব প্রদেশের উম্ম রিশ ক্যাম্প ও আকাবাত মেলাহ এলাকায় হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব এলাকা দক্ষিণাঞ্চলীয় ফ্রন্টে হুতিদের সহায়তা কেন্দ্র, অবস্থান ও চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে সরকারি বাহিনীর দাবি।
ইয়েমেনের লাহিজ প্রদেশের কাহবুব এলাকার পাহাড়ি ফ্রন্টেও হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই চলছে। সরকারি বাহিনীর দাবি, তারা হুতিদের ওপর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি উচ্চভূমি দখল করতে দেয়নি।
কাহবুবের এসব উঁচু এলাকা বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও আশপাশের এলাকার ওপর কৌশলগত নজরদারির সুযোগ দেয়। ফলে এই উচ্চভূমির নিয়ন্ত্রণ ছাড়া বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হবে না বলে সংশ্লিষ্টদের মত।
প্রতিবেদক
চ্যানেল আই অনলাইন
চ্যানেল আই অনলাইন
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…