মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: আমিরাতের সমুদ্রসীমা দখলের দাবি ইরানের – DesheBideshe

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: আমিরাতের সমুদ্রসীমা দখলের দাবি ইরানের – DesheBideshe


মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: আমিরাতের সমুদ্রসীমা দখলের দাবি ইরানের – DesheBideshe

আবুধাবি, ৫ মে – মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উপকূলীয় অঞ্চলের এক বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি তুলেছে ইরান। মঙ্গলবার (৫ মে) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরান একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করে তাদের বর্ধিত সমুদ্রসীমার দাবি পেশ করেছে।

ইরানের প্রকাশিত নতুন মানচিত্রে লাল রেখা দিয়ে চিহ্নিত এলাকাটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ছাড়িয়ে আমিরাতের উপকূলের দীর্ঘ অংশজুড়ে বিস্তৃত। এই দাবিকৃত অঞ্চলের মধ্যে আমিরাতের দুটি লাইফলাইন ফুজাইরা ও খোরফাক্কান বন্দরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালিতে সংঘাত চললে আমিরাত এই দুটি বন্দর ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে তেল ও পণ্য সরবরাহ সচল রাখে। আবুধাবি ক্রুড অয়েল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত এই ফুজাইরা বন্দর। এর মাধ্যমে দেশটি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সরাসরি তেল রপ্তানি করতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি সত্যিই এই বন্দরে প্রবেশের পথ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তবে তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ নৌ-অবরোধের শামিল হবে।

হরমুজ প্রণালি কি এখন রুদ্ধ?

সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি গোলাগুলির ঘটনার পর মঙ্গলবার থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ারের পাহারায় দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে।

তেহরান এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেছে, কোনো জাহাজ তাদের অনুমতি ছাড়া পার হতে পারেনি। তবে শিপিং জায়ান্ট মায়েরস্ক নিশ্চিত করেছে যে, সোমবার মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজ ‘অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স’ সামরিক পাহারায় পারস্য উপসাগর ত্যাগ করতে সক্ষম হয়েছে।

এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ বা বাধাগ্রস্ত হওয়া মানেই বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা।

ইরানের এই নতুন মানচিত্র প্রকাশ কেবল ভৌগোলিক দাবি নয়, বরং এটি আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির একটি বড় কৌশল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এনএন/ ৫ মে ২০২৬



Scroll to Top