
ওয়ান্ডারমেন্ট ট্যুর, সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতা এবং ‘রোজা’র দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব নিয়ে মুখ খুললেন অস্কারজয়ী সুরকার।
ভারতীয় সংগীতজগতের অন্যতম জনপ্রিয় সুরকার এ আর রহমান। দুটি অস্কার ও গ্র্যামি জয়ী এই সংগীতশিল্পী বর্তমানে তার ‘ওয়ান্ডারমেন্ট ট্যুর’ নিয়ে ব্যস্ত। এই সফরের অংশ হিসেবে মুম্বাই ও দিল্লি-এনসিআরে কনসার্ট করার কথা রয়েছে তার। এর আগে ‘হিন্দুস্তান টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগীতজীবন, মঞ্চে পারফর্ম করার শুরুর দিকের ভয় এবং সংগীতের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কথা বলেছেন তিনি।
রহমান জানান, একসময় মঞ্চে উঠতে ভীষণ ভয় পেতেন তিনি। তার কথায়, “একটা সময় মঞ্চে উঠলে মনে হতো যেন মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছি।”
১৯৯৬ সালে মালয়েশিয়ায় প্রথম মঞ্চে পারফর্ম করার পর তিন দশকের অভিজ্ঞতায় অনেকটাই বদলেছে তার অবস্থান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সিম্ফনি অর্কেস্ট্রার সঙ্গে কনসার্ট থেকে শুরু করে বড় আয়োজনের অনুষ্ঠানেও স্বাচ্ছন্দে অংশ নিচ্ছেন তিনি।
তবে মঞ্চে ওঠার আগে প্রস্তুতি ও চাপ এখনও রয়েছে। রহমান জানান, সাধারণত কয়েক দিন আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে হয়। ট্যুরের ক্ষেত্রে বিকল্প সংগীতায়োজনসহ নানা বিষয়ে কাজ শুরু করতে হয় প্রায় এক মাস আগে।
শিল্পীদের সমন্বয়, পরিবেশনার সূচনা এবং নতুন চমক তৈরির মতো বিষয়গুলো নিয়ে চলে পরিকল্পনা। অনুষ্ঠানের আগে চাপ থাকলেও দর্শক-শ্রোতারা উপস্থিত হলে সেই দুশ্চিন্তা অনেকটাই দূর হয়ে যায়। কয়েক সপ্তাহ আগে বেঙ্গালুরুতে তার পরিবেশনা ভালো হয়েছিল বলেও জানান তিনি।
নিজের ‘ওয়ান্ডারমেন্ট ট্যুর’কে নিছক কনসার্ট নয়, বরং একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখেন রহমান। তার লক্ষ্য, অতিরিক্ত আয়োজন না করেও পরিবেশনায় এমন কিছু রাখা, যা দর্শকদের আনন্দ দেবে। কোনো পরিকল্পনা সফল হলে সেটি তার কাছে অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
এ প্রসঙ্গে ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘রোজা’ ছবির কথা উল্লেখ করেন তিনি। ছবিটি মুক্তির পর ৩৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে তার সংগীতযাত্রার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন বহু পরিচালক, গীতিকার, গায়ক, গল্পকার ও অভিনেতা। রহমানের মতে, মানুষের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর সঙ্গে গান গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে। প্রেম, আশা, সাফল্য, ব্যর্থতা কিংবা প্রিয়জনকে হারানোর অনুভূতি—সবকিছুর সঙ্গেই কোনো না কোনো গান মিশে থাকে। নতুন সিনেমা ও সাউন্ডট্র্যাকের গানও মানুষের জীবনের নানা অধ্যায়ের স্মৃতি হয়ে ওঠে।
নিজের গান মানুষের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে—এমন অনুভূতি প্রসঙ্গে রহমান বলেন, সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারাটাই তার কাছে আশীর্বাদ। কাজের পরিমাণ কমিয়ে গুণমানের দিকে মনোযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। কোনো সিনেমা সফল হয়েছে কি না, সেটিকে একমাত্র বিবেচ্য বিষয় না করে নিজের সামর্থ্যের মধ্যে ভালো কাজ করার চেষ্টা করেছেন।
পেছন ফিরে তাকালে নিজের কাজ নিয়ে গর্ব অনুভব করেন এই সুরকার। তার সঙ্গে কাজ করা সংগীতশিল্পী, গায়ক ও পরিচালকেরাও সেই সৃষ্টিগুলো নিয়ে গর্বিত বলে জানান তিনি। তিন দশক পরও যখন দুই প্রজন্মের মানুষ তার গান একসঙ্গে উপভোগ করেন, তখন তা তাকে বিশেষভাবে তৃপ্ত করে। রহমানের কাছে সংগীতের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো—সময় পেরিয়েও মানুষের জীবনের সঙ্গে এই সংযোগ অটুট থাকা। হিন্দুস্তান টাইমস
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

