
হিউস্টন, ২৯ জুন – নকআউট পর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে বেশ ফুরফুরে মেজাজেই দেখা গেল ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে। তবে প্রতিপক্ষ জাপানকে মোটেও হালকাভাবে নিচ্ছেন না এই ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ড। ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নকআউট পর্বে কোনো ভুল শোধরানোর সুযোগ নেই, তাই পেনাল্টি শুটআউট পর্যন্ত যেকোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে প্রস্তুত সেলেসাওরা।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে আজকের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে মাঠে নামছে দুই দল। অতীতে জাপানের কাছে হারের তেতো অভিজ্ঞতা থাকায় এবার বাড়তি সতর্ক পুরো ব্রাজিল শিবির।
গ্রুপ পর্ব আর নকআউটের সমীকরণ যে সম্পূর্ণ আলাদা, তা খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিয়ে আনচেলত্তি বলেন, “নকআউট পর্বে যেকোনো কিছুই হতে পারে। অতিরিক্ত সময় এবং পেনাল্টি—আমরা সব দিক মাথায় রেখেই প্রস্তুতি নিয়েছি। এই ধরনের ম্যাচে শুধু পা নয়, মস্তিষ্ক ও হৃদয় দুটোই সচল রাখতে হবে। যেহেতু এটি এক লেগের ম্যাচ, তাই ছিটকে গেলে আর ফেরার পথ নেই। তবে আমার ছেলেরা বুদ্ধিমান, তারা জানে এই চাপ কীভাবে সামলাতে হয়।”
ম্যাচের আগের শেষ অনুশীলনে স্কোয়াডের সবাইকে ফিট পেয়েছেন কোচ। স্কটল্যান্ডকে হারানো একাদশই আজ মাঠে নামবে—এমন গুঞ্জন থাকলেও শুরুর একাদশ নিয়ে রহস্য জিইয়ে রেখেছেন আনচেলত্তি। মজা করে তিনি বলেন, “আমি একাদশ ফাঁস করে আপনাদের (সাংবাদিকদের) কাজ সহজ করতে চাই না। তবে যারা খেলবে, তারা ব্যক্তিগতভাবে সেটা আগেই জেনে গেছে। তাই খেলোয়াড়রা কোচের চেয়ে অনেক নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পেরেছে।”
ব্রাজিলিয়ান সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর হলো দলের মহাতারকা নেইমারের ফিটনেস। ইনজুরি কাটিয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে অল্প সময়ের জন্য মাঠে নেমেছিলেন তিনি। আজকের ম্যাচে তাকে আরও বেশি সময় দেখা যাবে বলে নিশ্চিত করেছেন কোচ।
নেইমারকে নিয়ে আনচেলত্তির ভাষ্য, “নেইমার খুব দ্রুত উন্নতি করছে। গত সপ্তাহের চেয়ে সে এখন অনেক ভালো অবস্থায় আছে। আজ নিশ্চিতভাবেই ১৫ মিনিটের বেশি খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে তাকে কখন মাঠে নামানো হবে, তা ম্যাচের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করছে।”
জাপানকে হালকাভাবে না নেওয়ার পেছনে রয়েছে এক অতীত তিক্ততা। সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে এক প্রীতি ম্যাচে জাপানের মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের মারাত্মক ভুলে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে বসেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। আজকের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়াতে মরিয়া আনচেলত্তির শিষ্যরা।
এনএন/ ২৯ জুন ২০২৬






