গোপালগঞ্জে ভালোবেসে বিয়ে করার পনেরো দিনের মাথায় লাশ হয়ে বাড়ি ফিরেছে নুসরাত হোসেন সানজিদা তন্নী (১৮)। চাহিদামত যৌতুকের টাকা না পাওয়ায় শশুর বাড়ীর লোকজন তাকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ডুমুরিয়া ইউনিয়নের চর গোপালপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তন্নী গোপালপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর খানের মেয়ে ও তার স্বামী একই গ্রামের জাফর খানের ছেলে আরিফুল খান।
তন্নীর বাবা জাহাঙ্গীর খানের অভিযোগ শশুর বাড়ীর লোকজন য়ৌতুক না পেয়ে তার মেয়ে তন্নীকে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্নহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করছে।
তন্নীর বাবা ও স্থানীয়রা জানান, ১৫ দিন আগে আরিফুল রাতের বেলা তন্নীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে গ্রামের লোকজন উদ্যোগ নিয়ে তাদের বিয়ে পড়িয়ে দেয়। এই বিয়ে পড়ানোর সময় কথা হয় বাবা মাকে বুঝিয়ে পরে তন্নীকে বাড়ীতে নিয়ে যাবে। কিন্তু, কয়েকদিন পার হওয়ার পরেও তন্নীকে না নেওয়ায় রোববার নিজে স্বামীর বাড়িতে গিয়ে ওঠেন তন্নী।
তন্নীর বাবা জাহাঙ্গীর খান অভিযোগ জানান, সোমবার তন্নী বাড়িতে এসে জানায়, শশুর বাড়ির লোকজন তার নামে দুই বিঘা জমি লিখে দিতে বলেছে। জমি লিখে দিলে তাকে শশুর বাড়ীর লোকজন বউ হিসেবে মেনে নিবে। এ কথা বলে আমার মেয়ে স্বামীর বাড়ি চলে যায়।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকালে আমার মেয়েকে শশুরবাড়ির লোকজন মারপিট করে মুখে বিষ ঢেলে আমাদের বাড়ির সামনের রাস্তায় ফেলে যায়। মেয়েকে উদ্ধার করে প্রথমে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার বিকালে আমার মেয়ে মারা যায়।
বৃহস্পতিবার ঘটনার সত্যতা জানতে চেয়ে তন্নীর স্বামী আরিফুল খানের বাড়িতে গিয়ে ঘর তালাবদ্ধ দেখা যায়। এ ছাড়া আরিফুলের মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
টুঙ্গিপাড়া থানার ওসি আইয়ুব আলী বলেন, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রাখা হয়েছে। মেয়ের পরিবারের লোকজন এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



