ভারতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রা – DesheBideshe

ভারতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রা – DesheBideshe
ভারতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রা – DesheBideshe
সোমবার দিল্লিতে বিরোধীদের প্রতিবাদ পদযাত্রা

দিল্লি,১১ অক্টোবর-ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির রাজপথে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’।

‘সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সরাতেই হবে, এ নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই’—এমন অবস্থান জানিয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দিল্লির রাজপথে বিশাল প্রতিবাদ পদযাত্রার ডাক দিয়েছে কংগ্রেস ও তাদের মিত্র দলগুলো। একই সঙ্গে নির্বাচনী জালিয়াতি বন্ধে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ চেয়ে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা কে সি ভেনুগোপাল এক সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ভারতের গণতন্ত্র রক্ষায় উদ্বিগ্ন প্রতিটি নাগরিকের কাছে তাঁদের আকুল আহ্বান, মোদী-শাহ সরকারের পরিকল্পিত ভোট চুরির বিরুদ্ধে সোমবার দিল্লির এই ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে যোগ দিতে হবে। জ্ঞানেশ কুমার ও তাঁর সহযোগীদের সরানো না পর্যন্ত তাঁরা একচুলও পিছপা হবেন না বলেও জানান তিনি।

এর আগে শনিবার সকালে সিজেপির যন্তর মন্তর অভিযান ঠেকাতে দিল্লি পুলিশ নজিরবিহীন লকডাউন ও গণ-আটক অভিযান চালায়। এতে দেশটির একাধিক সাবেক ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী আটক হন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে রেখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গাড়িতে ঘোরানোর পর হরিয়ানা-দিল্লি সীমান্তে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বলেন, তাঁরা কোনো অপরাধী নন। দুই ঘণ্টা ধরে পুলিশ তাঁদের তুলে নিয়ে গাড়িতে ঘুরিয়েছে। এটি কোনো গ্রেপ্তার নয়, বরং সরাসরি অপহরণ। তাঁর দাবি, দেশে এখন জরুরি অবস্থার সীমা পেরিয়ে ‘সুপার ইমার্জেন্সি’ চলছে।

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর অনুরোধে কলকাতায় ফেরার ফ্লাইট বাতিল করে দিল্লিতেই অবস্থান করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর এই সিদ্ধান্ত বিরোধী দলগুলোর ঐক্যে নতুন গতি তৈরি করেছে। তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সোমবারের পদযাত্রায় যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছাচ্ছেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ত্রিপুরার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ বামপন্থী শীর্ষ নেতা বৃন্দা কারাত, দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, যোগেন্দ্র যাদব এবং বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণকেও পুলিশ আটক করে।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) কটাক্ষ করে লিখেছেন, “বিরোধীদের দেখে মোদি সরকার কতটা আতঙ্কিত যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের গাড়িতে তুলে এক ঘণ্টা ঘুরিয়ে রাখতে হচ্ছে! মোদির ভয় এখন প্রকাশ্যে, যা সত্যিই লজ্জাজনক।”

ভোটার তালিকা পুনর্নিরীক্ষণ বা ‘স্পেশাল ইন্টেন্সিভ রিভিশন’ (এসআরআই) প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়া জোটের এই নতুন ঐক্য মোদী সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এরই মধ্যে শুক্রবার কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, রাহুল গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও ওমর আবদুল্লাহদের নিয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করেছে।

শনিবারের ব্যাপক ধরপাকড়ের পর সোমবার ইন্ডিয়া জোটের সব দল মিলে দিল্লিতে এই যৌথ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে। এ কর্মসূচিকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে চলমান উত্তাপ আরও বাড়ল।

এস এম/ ১১ অক্টোবর ২০২৬

Scroll to Top