
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে দেশ ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে দেশটির বিদেশি আঞ্চলিক নিবন্ধন কার্যালয় (এফআরআরও)। এবার তার ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) নিবন্ধন বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিনেতা।
গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে ইমরান খান দেশ ছাড়ার নোটিশকে ‘অসাংবিধানিক’, ‘অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও ক্ষমতার অপব্যবহার বলে দাবি করেছেন। নোটিশটি বাতিল এবং মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে কোনো জবরদস্তিমূলক পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশনাও চেয়েছেন।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান খান। এর চার দিন পর, ১৪ অক্টোবর তাকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ পাঠায় এফআরআরও। বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ‘ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫’-এর বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতে ইমরান খানের যুক্তি, কোনো বিক্ষোভস্থলের কাছে উপস্থিত থাকা কিংবা চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের কারণে অভিবাসন আইন প্রয়োগ করে কাউকে শাস্তি দেওয়া যায় না। তার দাবি, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাকে ভারত ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ইমরান খান দাবি করেছেন, দুই বছর বয়স থেকে তিনি ভারতে বসবাস করছেন এবং দেশটির নাগরিকত্ব আইন, ১৯৫৫-এর আওতায় তার ওসিআই নিবন্ধন রয়েছে। কিন্তু এফআরআরও তাকে শুধু মার্কিন নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করে নোটিশ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। তার মতে, এ পদক্ষেপ ভারতের সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অধিকারেরও পরিপন্থী।
এদিকে, ইমরান খানের ওসিআই নিবন্ধন কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে পৃথক কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে এফআরআরও। ভারতের নাগরিকত্ব আইনের ৭ডি(ই) ধারায় দেওয়া এ নোটিশের জবাব দিতে তাকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দিলে কর্তৃপক্ষ আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে পারে।
দেশ ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে ইমরান খানের আবেদনের জরুরি শুনানি সোমবার (১৯ অক্টোবর) হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…

