ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সিকিম রাজ্যে নির্মাণাধীন একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ধসে অন্তত নয় জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও অন্তত ১৫ জন সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
আজ (২১ জুলাই) মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার হিমালয়সংলগ্ন সিকিমে তিস্তা নদীর জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য নির্মাণাধীন একটি সুড়ঙ্গে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্ঘটনার সময় ২৫ থেকে ২৭ জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন। এই পর্যন্ত নয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
সিকিম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের পরিচালক রাজীব রোকা বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে একটি বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গটি ধসে পড়ে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সাম্প্রতিক সময়ে টানা ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতিও দুর্বল হয়ে পড়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুড়ঙ্গের অনেক গভীরে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। তাই এর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
তিনি জানিয়েছেন, এটি প্রাকৃতিক কারণেও ঘটতে পারে। ভূগর্ভস্থ শিলাস্তর থেকে নির্গত বিষাক্ত মিথেন গ্যাস উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একারণে শুধু অক্সিজেন সরঞ্জাম বহনকারী বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলই সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে। আটকে পড়াদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান চলছে। খনি দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একটি বিশেষজ্ঞ দলকে বিমানযোগে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে।
ভারতে বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পে দুর্ঘটনা নতুন নয়। পরিবেশবিদদের মতে, হিমালয়ের নাজুক পরিবেশে অতিরিক্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের কারণে এধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। এর আগে ২০২৩ সালে উত্তরাখণ্ড রাজ্যে নির্মাণাধীন একটি সড়ক সুড়ঙ্গ ধসে ৪১ জন শ্রমিক আটকা পড়েছিলেন। দীর্ঘ ১৭ দিনের উদ্ধার অভিযান শেষে তাদের জীবিত উদ্ধার করা হয়।

