এ ছাড়া মানবাধিকারকর্মীদের অভিযোগ, মুসলিমদের ‘অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করে তাঁদের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করার অজুহাত হিসেবে এই বিষয়কে ব্যবহার করছে ভারত।
আল-জাজিরাকে হর্ষ মান্দার বলেন, ‘ভারতের তথাকথিত “বিতর্কিত নাগরিকত্ব” বিষয়টি নিষ্ঠুর এবং এটি সংবিধান ও আন্তর্জাতিক রীতির লঙ্ঘন।’ অভিবাসীদের আটক করার অভিযানের কথা বলা হলেও বাস্তবে ভারতীয় মুসলিমদের সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিয়ে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মান্দার আরও যোগ করেন, ‘এটি বাঙালি মুসলিমদের সার্বক্ষণিক এক আতঙ্কের মধ্যে রাখার কৌশল। এর মাধ্যমে তাঁদের মনে এই ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যেকোনো সময় তাঁদের নাগরিকত্ব কেড়ে নিয়ে রাষ্ট্রহীন করে দেওয়া হতে পারে।’
অংশুমান চৌধুরী উদাহরণ দিয়ে বলেন, আসামে ভারত ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল’ নামের আধা-বিচার বিভাগীয় আদালত গঠন করেছে। ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্টের অধীনে সন্দেহভাজন ব্যক্তি ভারতীয় নাকি বিদেশি—তা নির্ধারণ করেন এই আদালত।
চৌধুরী বলেন, তিনি আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে এমন অনেক মামলায় কাজ করেছেন যেখানে শুধু প্রয়োজনীয় নথিপত্র দেখাতে না পারার কারণে ভারতীয়দের ‘বিদেশি’ ঘোষণা করা হয়েছে।
চৌধুরী বলেন, ‘এই জোরপূর্বক বহিষ্কারের প্রক্রিয়াগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের নতুন এক কৌশল, যা খুবই বিপজ্জনক।’
অংশুমান চৌধুরী মনে করেন, সীমান্ত এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপ ছাড়ার পরিকল্পনাটি মূলত ভারতীয় মুসলিমদের প্রতি সরকারের একই বিদ্বেষী নীতির প্রতিফলন।


