
বুয়েনস আইরেস, ২১ জুলাই – বিশ্বকাপ ফুটবলের আসর শেষ হওয়ার পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে একটি চিরাচরিত প্রশ্ন নতুন করে ডালপালা মেলে। সেটি হলো, বিশ্বকাপজয়ী কোনো ফুটবলারই কি কেবল ব্যালন ডি’অরের জন্য চূড়ান্তভাবে যোগ্য? তবে ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে দেখা যায় বিষয়টি মোটেও তেমন নয়।
ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই ব্যক্তিগত পুরস্কারের সঙ্গে বিশ্বকাপের সম্পর্ক থাকলেও, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া কখনোই এই ট্রফি জয়ের একমাত্র নিশ্চয়তা দেয় না। বরং বছরজুড়ে একজন ফুটবলারের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই এখানে মূল বিবেচ্য বিষয়।
সম্প্রতি এই বিতর্ক নতুন রূপ পেয়েছে যখন ব্যালন ডি’অর আয়োজক সংস্থা ফ্রান্স ফুটবল একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সাময়িকীটি স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, ব্যালন ডি’অর জিততে বিশ্বকাপ জয় বাধ্যতামূলক কোনো শর্ত নয়। একজন খেলোয়াড় পুরো মৌসুমে ক্লাবের হয়ে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কেমন পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন, সেটিই পুরস্কারটি নির্ধারণে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে কাজ করে।
এই বার্তার সঙ্গে তারা আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসির একটি ছবি প্রকাশ করে নতুন করে জল্পনা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফ্রান্স ফুটবল তাদের প্রতিবেদনে অতীতের বেশ কিছু উদাহরণ তুলে ধরেছে। ২০১০ সালে স্পেন বিশ্বকাপ জয় করলেও সে বছর ব্যালন ডি’অর জয় করেছিলেন মেসি।
তিনি তখন সতীর্থ আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা ও জাভিকে পেছনে ফেলে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন। একইভাবে ২০১৪ সালে পর্তুগাল ব্যর্থ হলেও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এই পুরস্কার জয় করেছিলেন। ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া রানার্সআপ হওয়া সত্ত্বেও লুকা মদরিচ তার অসাধারণ পারফরম্যান্সের কারণে সেরা নির্বাচিত হন।
তবে ২০২৩ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয়ের পর অষ্টম বারের মতো ব্যালন ডি’অর নিজের ঝুলিতে ভরেন মেসি। চলতি মৌসুমেও ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে রদ্রি, লামিনে ইয়ামাল, কিলিয়ান এমবাপ্পে এবং হ্যারি কেইনের পাশাপাশি মেসির নামটিও আলোচনায় রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপ জিতলে লড়াইয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায় ঠিকই, তবে সেটি বিজয়ী হওয়ার চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। বরং পুরো মৌসুমে যিনি সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী এবং ধারাবাহিক ফুটবল উপহার দেন, তারই হাতে ওঠে সোনালি বলটি। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ বছরের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে।
এস এম/ ২১ জুলাই ২০২৬




