রাত একটায় কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বে স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াই। স্পেনের গোলপোস্ট এখনও অক্ষত, কোনো গোল খায়নি। এপর্যন্ত প্রতিপক্ষকে গোল দিয়েছে মোট ৯টি। স্পেন সেই শুরুতে কেপ ভার্দের সাথে ০-০ গোলে ড্র করেছিল। অবশ্য এরপর গ্রুপে ধারাবাহিকভাবে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ৪-০, উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়ী হয়। এরপর অষ্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে ৩-০ , পর্তুগালের বিরুদ্ধে ১-০ গোলে জয়ী হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে এসেছে। এদিকে বেলজিয়াম গ্রুপ পর্বে মিশরের সাথে ১-১ গোলে ড্র, ইরানের সাথে ০-০ গোলে ড্র এবং নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৫-১ গোলে জয়ী হয়। এরপর শেষ বত্রিশ দলের লড়াই-এ সেনেগালকে ৩-২ গোলে পরাজিত করে। আর শেষ ষোলোতে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়।
শুক্রবার রাতে স্পেন না বেলজিয়াম জয়ী হবে-এ প্রশ্নে দ্বিধাদ্বন্ধ রয়েছে। এককভাবে রায় দেওয়ার কিছু নেই। বলা হচ্ছে ফুটবলে এমন কিছু ম্যাচ থাকে, যেখানে শুধু দুই দলের লড়াই নয়, মুখোমুখি হয় দুটি ভিন্ন দর্শনও। স্পেন ও বেলজিয়ামের লড়াই তেমন এক চিত্রকল্প। একদিকে বলের দখল ধরে রেখে স্থির আক্রমণে বিশ্বাসী স্পেন, অন্যদিকে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ, শারীরিক শক্তি ও সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতায় ভরসা করা বেলজিয়াম। স্পেনের খেলার সবচেয়ে বড় শক্তি পাসিং ফুটবল। মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখা এবং উইং ব্যবহার করে আক্রমণ গড়ে তোলাই তাদেও দৃষ্টিনন্দন কৌশল। বল হারানোর পরই দ্রুত প্রেসং করে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করার সক্ষমতাও স্পেনের বৈশিষ্ট্য।
অন্যদিকে, বেলজিয়াম আলাদা। হয়তো দীর্ঘ সময় বলের দখল রাখতে চাইবে না। বরং প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষায় থেকে দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাকে আঘাত হানাই হবে তাদের লক্ষ্য। সেট-পিস থেকেও তারা বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হবে মাঝমাঠে। স্পেন যদি নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে পারে, তাহলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতেই থাকবে। কিন্তু বেলজিয়াম যদি স্পেনের পাসিংয়ের গতি ভেঙে দিতে পারে এবং দ্রুত আক্রমণে সফল হয়, তাহলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারে। তবে সময় যত গড়াবে, ততই ম্যাচে গতি ও উত্তেজনা বাড়বে।
কাগজে-কলমে স্পেন কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ফুটবল কখনো শুধু পরিসংখ্যানের খেলা নয়। ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে যে দল নিজেদের পরিকল্পনা সবচেয়ে ভালোভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে, তারাই শেষপর্যন্ত হাসবে। সব মিলিয়ে, দর্শকদের জন্য এটি হতে পাওে কৌশল, গতি, দক্ষতা ও মানসিক দৃঢ়তার এক জমজমাট লড়াই। এ ছাড়া আজকের এই ম্যাচে বেলজিয়ামের গোলরক্ষক কর্তোয়াও স্পেনের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সাবেক তারকা ফুটবলার শেখ আসলাম বললেন, কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন বনাম বেলজিয়াম ম্যাচটি হবে অনবদ্য। একপেশে ম্যাচ হবে না। খুবই প্রতিদ্বন্ধিতাপূর্ন ম্যাচ হবে। এই দুটি ম্যাচেই নানান সমীকরণ থাকবে। কাউকে যে অনেক এগিয়ে রাখবেন তা কিন্তু নয়। আবার কোনো বিশেষ খেলোয়াড়ের কারণে ম্যাচ এলোমেলো হবে তাও নয়। সংঘবদ্ধ, সংগঠিত আক্রমণ দিয়েই ম্যাচ জিতবে হবে।
তিনি বলেন, ‘স্পেন গতিময় ফুটবল খেলে। এই দলে ইয়ামাল রয়েছে। সে কতক্ষণ খেলবে জানিনা। কিন্ত বেলজিয়ামে আবার লুকাকোও আছে। সেও সুযোগ সন্ধানি। দ্রুত এটা সেটা করে ফেলতে পারে। সে ক্ষমতা তার আছে। স্পেনের বিপক্ষে বেলজিয়ামের কৌশলটা কী হবে মাঠে দেখা যাবে। তবে স্পেনের ওপর সহসা আধিপত্য বিস্তার করা কঠিন হবে, সবমিলিয়ে মনে হচ্ছে এই ম্যাচে ছন্দময় ফুটবলের দেখা নাও যেতে পারে। বেলজিয়াম শারীরিক সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে পারে।’
সবশেষে শেখ আসলাম বলেন, ‘বেলজিয়ামের স্কিল আর স্পেনের গতি আশা করি ভীষণ উপভোগ্য হবে।’



