মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে কোনো ইভেন্ট ছাড়া প্রবেশের সুযোগ পাবেন না গণমাধ্যমকর্মীরা। স্টেডিয়াম ও এর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করতেই এমন বিধিমালা কার্যকর করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমনটা জানায় বিসিবি। সে বিধিনিষেধ আরোপের প্রতিবাদ জানিয়েছে ক্রীড়া সাংবাদিকদের দুই সংগঠন বিএসজেএ ও বিএসপিএ।
রোববার সংগঠন দুইটি প্রতিবাদ জানিয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের বরাবর চিঠি পাঠায়। জানিয়েছে, নিরাপত্তার বিষয়ে সহযোগিতা করতে তারা সবসমই প্রস্তুত, তবে সাংবাদিকদের এভাবে দূরে ঠেলে দেয়ার ফলে গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বিএসপিএ বিবৃতিতে লিখেছে, ‘শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের প্রবেশের ক্ষেত্রে সম্প্রতি ঘোষিত নতুন বিধিনিষেধের বিষয়ে বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসপিএ) তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করছে, যা সংবাদকর্মীদের পেশাগত কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’
‘বিএসপিএ সর্বদা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেকে (বিসিবি) সহযোগিতা করে আসছে এবং ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক মিডিয়া নীতিমালা মেনে চলেছে। আমরা নিয়মিতভাবে বিসিবি মিডিয়া কমিটির মাধ্যমে মিডিয়া অ্যাক্রেডিটেশন গাইডলাইনসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে আসছি।’
‘বিএসপিএ দৃঢ়ভাবে জানাচ্ছে যে, শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে চলমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকরা কোনো বাধা নন। ক্রীড়া সাংবাদিকরা অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সাথে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আপনি (বিসিবি সভাপতি) নিজেও বারবার বলেছেন যে, সাংবাদিকরা ক্রিকেটের অন্যতম প্রধান অংশীদার; বিএসপিএ বিশ্বাস করে এই নীতির প্রতিফলন নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তে থাকা উচিত।’
‘বিএসপিএ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে এই সিদ্ধান্তটি অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করার জন্য জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে। বিএসপিএ এবং অন্যান্য মিডিয়া সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে একটি সহযোগিতামূলক এবং পারস্পরিক কল্যাণকর সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব। বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার স্বার্থে বিসিবির সাথে কাজ করতে বিএসপিএ সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
আরেক সংগঠন বিএসজেএ বিবৃতিতে লিখেছে, ‘মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রবেশ সংক্রান্ত বিসিবির নতুন বিধিনিষেধ আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং আমাদের প্রাত্যহিক পেশাগত জীবন এতে ব্যাহত হবে বলে মনে হয়েছে। নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যাপার সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এখানে পূর্ণ সহযোগিতা করতে আমরাও সবসময় প্রস্তুত। কিন্তু সংবাদকর্মীদের পুরোপুরি দূরে ঠেলে ক্রিকেটের প্রসার সম্ভব নয় বলেই আমরা মনে করি।’
‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের এগিয়ে চলার পথে সংবাদমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা সর্বজনবিদিত। আপনি (বিসিবি সভাপতি) নিজেও বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, দেশের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার সংবাদকর্মীরা। কিন্তু সেই ভাবনার প্রতিফলন বিসিবির এই সিদ্ধান্তে পড়েনি। বিশেষ করে, এত বড় সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনোরকম আলোচনা না করায় আমরা স্তম্ভিত ও হতাশ হয়েছি।’
‘আমরা বিসিবির এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এই ধরনের পদক্ষেপ সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রবাহকে ব্যাহত করবে এবং স্বাধীন ও মুক্ত সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করবে।’
এরআগে শনিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছিল, স্টেডিয়ামে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। স্টেডিয়াম কমপ্লেক্সে প্রবেশকারী সকলের জন্য যা প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা শুধু নির্দিষ্ট কিছু উপলক্ষে স্টেডিয়ামে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। যার মধ্যে রয়েছে ম্যাচের দিন, আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন, বিসিবির আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আয়োজিত অনুষ্ঠান এবং বিসিবি কর্তৃক জানানো নির্দিষ্ট অনুশীলন বা প্রশিক্ষণ সেশন।




