বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ | চ্যানেল আই অনলাইন

বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলামের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ।

এ বক্তব্যকে ‘অবমাননাকর, অনভিপ্রেত ও বিদ্বেষপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে সংগঠনটি।

রোববার (২৩ আগস্ট) ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভায় এ বিষয়ে একটি প্রতিবাদলিপি গ্রহণ ও অনুমোদন করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি হলে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত ‘Higher Education Acceleration and Transformation’ বিষয়ক এক অনুষ্ঠানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম মন্তব্য করেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় চিন্তা-চেতনা ও গবেষণার সক্ষমতা বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের মধ্যে নেই।

ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের দাবি, একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে সরকারি কলেজের শিক্ষকদের সম্পর্কে এ ধরনের সাধারণীকৃত ও নেতিবাচক মন্তব্য করা উপাচার্যের দায়িত্বের মর্যাদার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ধরনের বক্তব্য বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের পেশাগত মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ ব্যাহত করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবাদলিপিতে সরকারি কলেজ ও শিক্ষা ক্যাডারের দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, ১৮৫০-এর দশক থেকে ঢাকা কলেজসহ বিভিন্ন কলেজের মাধ্যমে এ অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার বিস্তার ঘটে। পরবর্তী সময়ে সরকারি কলেজের শিক্ষক ও তাঁদের পূর্বসূরিরা দেশে উচ্চশিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

দেশের শিক্ষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও জ্ঞানচর্চায় সরকারি কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের অবদানের কথা উল্লেখ করে প্রতিবাদলিপিতে সাহিত্যিক শওকত ওসমান, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ও হরিশংকর জলদাসসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তির সরকারি কলেজে শিক্ষকতার বিষয় তুলে ধরা হয়। নবনিযুক্ত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও একসময় বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্য ছিলেন বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, একটি সম্পূর্ণ ক্যাডার সার্ভিসের সদস্যদের জ্ঞান, মেধা, গবেষণা ও একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্য করা বর্তমান শিক্ষা ক্যাডারের পাশাপাশি অতীতে এ পেশায় থাকা অসংখ্য শিক্ষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিকে অবমাননার শামিল।

প্রতিবাদলিপিতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধীনে থাকা সাত কলেজের দীর্ঘদিনের একাডেমিক সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ জানতে চেয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের পর সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সমস্যা সমাধানে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কী কী কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে। একই সঙ্গে কলেজগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কী কী নির্দেশনা দিয়েছে এবং সেসব নির্দেশনার কোনটি কলেজগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে, তারও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

সাত কলেজের শিক্ষকদের একাডেমিক ও পেশাগত মানোন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো প্রশিক্ষণ, গবেষণা, একাডেমিক উন্নয়ন বা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কোনো উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিক্ষকরা সহযোগিতা করেননি বা অংশগ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন কি না, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য থাকলে তা প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সাত কলেজের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও একাডেমিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করতে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কী কী সুপারিশ বা প্রস্তাব দিয়েছে, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, সাত কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকরা একাডেমিক কাউন্সিল গঠন, কো-অর্ডিনেটর নিয়োগ, সিলেবাস আধুনিকায়ন, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে সেমিস্টার পদ্ধতি চালু এবং একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও যুগোপযোগী করার বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। এসব প্রস্তাবের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তারও জবাব চাওয়া হয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যরা বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের কঠোর ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত হন। তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য, পদায়ন ও একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয় সরকারি বিধি, নীতিমালা, পরিপত্র ও লিখিত নির্দেশনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়।

এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন উপাচার্যের দায়িত্বশীল পদে থেকে সরকারি কলেজ ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের সদস্যদের একাডেমিক সক্ষমতা নিয়ে ঢালাও নেতিবাচক মন্তব্য কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয় বলে মনে করে ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ।

প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে সাত কলেজের একাডেমিক রূপান্তর ও ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এ সময়ে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের বক্তব্য যেন অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তেজনা বা বিভাজন তৈরি না করে, সে বিষয়ে সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতা প্রয়োজন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদের জরুরি সভায় সর্বসম্মতিক্রমে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলামের বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে প্রতিবাদলিপিটি গৃহীত ও অনুমোদিত হয়।

প্রতিবাদলিপির শেষাংশে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি হলে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের ১৬ হাজার সদস্য দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হবেন।

প্রতিবাদলিপিতে স্বাক্ষর করেছে ইডেন মহিলা কলেজ শিক্ষক পরিষদ এবং বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন, ইডেন মহিলা কলেজ ইউনিট।

Scroll to Top