এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ভারতের রাজধানী দিল্লী ক্রমবর্ধমান দূষণের শিকার। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে দিল্লির ছয়টি রাষ্ট্র পরিচালিত হাসপাতালে ২ লাখেরও বেশি শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।
বুধবার ৩ ডিসেম্বর সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
দিল্লি এবং এর আশপাশের শহরগুলোতে বিষাক্ত বায়ু একটি অপ্রতিরোধ্য সমস্যা। বিশেষ করে শীতকালে এটি তীব্র আকার ধারণ করে। এদিকে গত ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ শ্বাসযন্ত্রের অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দিল্লির বায়ু মান সূচক (একিউআই) এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের দূষণকারী পদার্থ পরিমাপ করে এর মধ্যে পিএম২.৫ মানের কণা পাওয়া গেছে। এটি একটি সূক্ষ্ম কণা, যা ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বন্ধ করে দিতে পারে। এর পরিমাপ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত সীমার ২০ গুণেরও বেশি দেখা গেছে।
দূষণ সমস্যার পেছনে কোনো একক কারণ নেই। তবে শিল্প-কারখানার নির্গমন, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, তাপমাত্রা হ্রাস, বাতাসের কম গতি এবং প্রতিবেশী রাজ্যগুলোতে ফসলের খড় পোড়ানোর মতো ঘটনাগুলো দূষণের কারণ। দিল্লির ছয়টি প্রধান হাসপাতালে ২০২২ সালে ৬৭ হাজার ৫৪ জন তীব্র শ্বাসযন্ত্রের রোগী, ২০২৩ সালে ৬৯ হাজার ২৯৩ জন এবং ২০২৪ সালে ৬৮ হাজার ৪১১ জন রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, ‘বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে জরুরি বিভাগের রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার একটি সম্পর্ক রয়েছে।
গত দশকে বিশেষ করে শীতকালে, দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনেকবার ৪০০-এর ‘বিপদজ্জনক’ চিহ্ন অতিক্রম করেছে। এই স্তর সুস্থ মানুষেরও ক্ষতি করতে পারে এবং যারা পূর্বে কোনো রোগে ভুগেছেন, তাদের জন্য আরো গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে। সরকার সমর্থিত সাফর অ্যাপ অনুযায়ী, বুধবার সকালে দিল্লির গড় একিউআই ছিল প্রায় ৩৮০।
দিল্লি হাইকোর্ট বুধবার একটি পিটিশনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে, যাতে ক্ষতিকর বায়ুদূষণ কমানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত কয়েক বছরে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও দিল্লি ও এর আশপাশের এলাকার বায়ু মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।




