ভারতের মুম্বাইয়ে মাত্র ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে এক মুসলিম পরিবারের চার সদস্যের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনাকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
সোমবার ২৭ এপ্রিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার রাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ আব্দুল কাদের (৪০), তার স্ত্রী নাসরিন (৩৫) এবং দুই মেয়ে—১৩ বছর বয়সী জয়নাব ও ১৬ বছর বয়সী আয়েশা—আত্মীয়দের সঙ্গে বিরিয়ানি খেয়ে বাড়ি ফেরেন। পরে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা তরমুজ খান।
রোববার ভোর ৫টার দিকে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে বমি ও ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। প্রথমে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত জেজে হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে ছোট মেয়ে জয়নাব মারা যায়। পরে তার মা নাসরিন (৩৫) ও বড় বোন আয়েশা (১৬) মারা যান। সর্বশেষ রাত সাড়ে ১০টার দিকে মারা যান পরিবারের কর্তা আবদুল্লাহ।
প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক জিয়াদ কোরেশি জানান, রোগীদের তীব্র বমি ও ডায়রিয়া হচ্ছিল এবং তাদের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, একটি আকস্মিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা থাকলেও নিশ্চিত হতে অর্ধেক খাওয়া তরমুজের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া ফরেনসিক বিভাগ ও খাদ্য কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তদন্ত করছে। তরমুজে কোনো বিষাক্ত পদার্থ বা ভেজাল ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভিসেরা ও অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।



