বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প – DesheBideshe

বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প – DesheBideshe

বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প – DesheBideshe

ওয়াশিংটন, ৩ এপ্রিল – যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন হয় না এমন সব বিদেশি ওষুধের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে রপ্তানিকারক কোম্পানিগুলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করার মাধ্যমে এই শুল্ক এড়াতে সক্ষম হবে।

দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ওষুধের ওপর শুল্ক বসানোর যে হুমকি ট্রাম্প দিয়ে আসছিলেন, অবশেষে বৃহস্পতিবার সেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলো।

হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই শুল্ক আরোপের মূল লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি হ্রাস করা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এই পদক্ষেপের গুরুত্ব অনেকটাই প্রতীকী। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। ইতোমধ্যে অনেক বড় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করেছে এবং এর ফলে তারা শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।

ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরও অনেক কোম্পানি একই ধরনের চুক্তিতে আবদ্ধ হবে।ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্সের অধ্যাপক শন সুলিভান মনে করেন, বাকি কোম্পানিগুলোকে দরকষাকষির টেবিলে নিয়ে আসাই এই পদক্ষেপের প্রধান উদ্দেশ্য।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, যেসব কোম্পানি ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, অর্থাৎ ২০২৯ সালের জানুয়ারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেবে, তাদের ওষুধের ওপর মাত্র ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এছাড়া কোম্পানিগুলো যদি সরকারের সঙ্গে মূল্য নির্ধারণ বিষয়ক চুক্তিতে পৌঁছায়, তবে শুল্ক সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে।

ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া চুক্তিগুলোর আওতায় কোম্পানিগুলো তাদের কিছু ওষুধ সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি মেডিকেইড এর জন্য নির্দিষ্ট বিদেশি বাজারের সমান দামে বিক্রি করতে রাজি হয়েছে। গত বছর ইউরোপ, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানসহ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের সঙ্গে সম্পন্ন হওয়া চুক্তির আওতায় নির্ধারিত কম শুল্কের সুবিধাও যুক্তরাষ্ট্র বহাল রাখবে।

গত বছরের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো ওষুধ শুল্কমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য সরকার এই অংশীদারত্বকে নিজেদের রোগী, ব্যবসা এবং অর্থনীতির জন্য একটি বিশাল জয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বড় কোম্পানিগুলোকে প্রশাসনের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ১২০ দিন সময় দেওয়া হবে এবং ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো ১৮০ দিন সময় পাবে। ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের সিনিয়র ফেলো রিচার্ড ফ্র্যাঙ্ক এই নির্দেশনার প্রভাব সম্পর্কে বলেন, কতগুলো ওষুধ ছাড় পাবে এবং কতগুলো কোম্পানি শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে আসবে তা এখনো অজানা থাকায় এর প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়ন করা কঠিন।

তবে শুল্কের হুমকির কারণে ওষুধ কোম্পানিগুলো ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে হোয়াইট হাউস দাবি করেছে। পাশাপাশি ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম এবং তামার ওপর আরোপিত শুল্কের শর্তেও কিছুটা পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

এনএন/ ৩ এপ্রিল ২০২৬



Scroll to Top