পরে ভাবলাম, আম্মার অনুরোধে আমার এত ভালো লাগল কেন?
মনে হলো, এমন একটি আবদার করতে পারা এবং তার উত্তর পাওয়ার মধ্যেও নিশ্চয়তার একটি জায়গা আছে। তিনি কিছু চাইতে পারেন। তাঁর ইচ্ছার গুরুত্ব আছে। খাবারটি কেমন হলো, সে বিষয়ে তাঁর মন্তব্যও শোনা হবে।
শারীরিক নির্ভরশীলতা বাড়লে এই নিশ্চয়তা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। প্রয়োজন জানাতে বারবার অন্যকে ডাকতে হয়।
তখন পছন্দের একটি খাবারের কথা বলাও হয়তো বাড়তি আবদার মনে হতে পারে। পরিবারের ব্যস্ততায় সেই ইচ্ছা বারবার উপেক্ষিত হলে মানুষ একসময় বলা কমিয়েও দিতে পারেন।
আম্মা এমন অনুভব করেছিলেন কি না, জানি না। তবে কথোপকথনটি আমাকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবিয়েছে। আমরা যাঁর যত্ন নিচ্ছি, তাঁর প্রয়োজনের তালিকা তৈরি করি। তিনি কী চান, তার জন্য কতটা জায়গা রাখি?
ওষুধ, চিকিৎসা, খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা হলেই দিনটি আনন্দে কাটে কি না, জানা যায় না। আজ তাঁর অপেক্ষা করার মতো কিছু ছিল? অসুস্থতার বাইরে কোনো বিষয়ে কথা হয়েছে? কোনো সিদ্ধান্তে তাঁর পরামর্শ নেওয়া হয়েছে?
২০২১ সালে এক সাময়িকীতে প্রকাশিত বাংলাদেশবিষয়ক একটি গবেষণায় প্রবীণ পুরুষদের তুলনায় প্রবীণ নারীদের মধ্যে একাকিত্ব ও বিষণ্নতা বেশি পাওয়া যায়। একা থাকা, নিঃসঙ্গ বোধ করা ও বিষণ্নতায় ভোগা অবশ্য আলাদা বিষয়। পরিবারের সঙ্গে থেকেও কারও মনে হতে পারে, তাঁর কথা শোনার মানুষ নেই।
সারা জীবন সংসারের জন্য কাজ করার পর বার্ধক্যে এসে কাউকে নিজের গুরুত্ব প্রমাণ করতে হওয়ার কথা নয়। আয় নেই, বাইরে যাতায়াত নেই কিংবা অন্যের সাহায্য প্রয়োজন—এসব কারণে তাঁর পছন্দের মূল্য কমে যেতে পারে না।


