
আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ৯ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। আসরে বাংলাদেশ প্রথম গোলের দেখা পাওয়ায় ১১ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জিতে ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিকরা। বড় ব্যবধানের পরাজয়ের পর বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি দলের বিভিন্ন দিকগুলো তুলে ধরেছেন। জার্মান এ কোচের মতে, বাংলাদেশের উন্নতির জন্য ধারাবাহিকভাবে পারফরম্যান্স লড়াকু মানসিকতার প্রয়োজন।
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের সার্বিক অবস্থা তুলে ধরে থমাস ডুলি জানান, ‘র্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালেই দলের শক্তির ব্যবধান স্পষ্ট হয়ে যায়। বাংলাদেশের র্যাঙ্কিং ১৮১, প্রতিপক্ষ দলগুলো ১১৬, ১৩০ বা ১৪০ এর ঘরে অবস্থান করছে। র্যাঙ্কিয়য়ে ওপরে থাকা দলগুলোর খেলোয়াড়রা আরও কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে খেলে অভ্যস্ত। থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশের লিগ বাংলাদেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী এবং তাদের খেলোয়াড়রা বুন্দেসলিগা বা ইউরোপীয় লিগগুলোর মতো প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।’
বাংলাদেশের অনুশীলনে ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ডুলি বলেন, ‘ফুটবলে শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছানোর জন্য ১০,০০০ ঘণ্টা অনুশীলন করতে হয়—এমন একটি কথা রয়েছে। সুতরাং, ১০,০০০ ঘণ্টা অনেক সময়। এটা মানে দাঁড়ায় বছরের পর বছর ধরে প্রতিদিন প্রায় তিন ঘণ্টা করে অনুশীলন করা। তো, অন্য দেশগুলোর মতো সেই পর্যায়ে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এই বিষয়টি হয়তো আমাদের বাংলাদেশে ঘাটতি রয়েছে।’
দুদলের পার্থক্যের কথা উল্লেখ করে এ জার্মান কোচ বলেন, ‘ফুটবলে সবকিছুই গতির ওপর নির্ভর করে—জানেন তো। আপনি কতটা দ্রুত পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন, কতটা দ্রুত তা বাস্তবায়ন করছেন। বল নিয়ন্ত্রণে আনতে কত সময় লাগছে এবং এই সমস্ত বিষয়গুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মালয়েশিয়ার দলগুলোর দিকে তাকান, মালয়েশিয়ার লিগে খেলা দলগুলো বাংলাদেশের আমাদের দলগুলোর চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। অথবা আপনি এখন ইন্দোনেশিয়ার দিকে তাকালেও একই জিনিস দেখতে পাবেন। থাইল্যান্ডের দিকে তাকালেও একই ব্যাপার।’
বাংলাদেশ দল এ আসরে থেকে শিখতে পেরেছে জানিয়েছেন কোচ ডুলি। তার মতে, ‘এই ম্যাচগুলোর মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি—কিছু শেখার জন্য, ভিডিওতে তা দেখার জন্য। আমরা তাদের ভিডিও দেখাই, ভিডিও কেটে ছোট করি এবং বারবার তাদের সেগুলো দেখতে হয়, কারণ আপনার মস্তিষ্কে তা গেঁথে ফেলতে হবে। আপনি যে পজিশনে খেলেন, সেখানে আপনার কী কী বিকল্প রয়েছে? এরপর আপনার বাঁ পায়ে, ডান পায়ে পাসিং ও নিখুঁত শট নেয়ার ক্ষেত্রে আরও ভালো করার জন্য অনুশীলন করতে হবে এবং এভাবেই উন্নতি আসে—যা রাতারাতি ঘটে না।’
আসিয়ান কাপের শেষ ম্যাচে গোলের দেখা পেয়েছে বাংলাদেশ দল। দুটি গোলের প্রথমটি করেছেন ফরোয়ার্ড শাহরিয়ার ইমন ও শেষটি উইঙ্গার ফারহান আলী ওয়াহিদ। অভিষেক হওয়ার পর তৃতীয় ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ইংল্যান্ড প্রবাসী এ তারকা। ম্যাচের প্রথমার্ধে হ্যাটট্রিকসহ চার এবং পরে আরেকটিসহ পাঁচ গোল করেছেন স্বাগতিকদের ফরোয়ার্ড মিচেল বেকার।
আরও পড়ুন
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…


