বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে গিয়ে মামলার শিকার সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার – DesheBideshe

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে গিয়ে মামলার শিকার সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার – DesheBideshe

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম মানতে গিয়ে মামলার শিকার সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার – DesheBideshe

ঢাকা, ১৪ মার্চ – বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে মামলার শিকার হয়েছেন রাজধানীর লক্ষ্মীবাজারের সোনালী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম সুমন। একই ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজসহ ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রকাশ করায় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধেও মানহানির মামলা করা হয়েছে। জানা যায় গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীর লক্ষ্মীবাজার এলাকায় সোনালী ব্যাংকের শাখায় ৭৫ হাজার টাকা পাঠাতে আসেন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সিনিয়র মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহারিয়া খানম।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকার বেশি লেনদেনে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি বাধ্যতামূলক হওয়ায় ব্যাংক কর্মকর্তারা তা জমা দিতে বলেন। অভিযোগ উঠেছে পরিচয়পত্র দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই চিকিৎসক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে শাখা ব্যবস্থাপক মো. জহিরুল ইসলাম সুমন এগিয়ে গেলে তাকে নিজ কক্ষে অবরুদ্ধ করে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়াই টাকা জমা নিতে চাপ দেওয়া হয়। পরে অন্য এক গ্রাহকের সহায়তায় তিনি কক্ষ থেকে বের হতে সক্ষম হন।

পরবর্তীতে এই ঘটনাটিকে শ্লীলতাহানির অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ডা. শাহারিয়া খানম। ঘটনার প্রায় ১৬ দিন পর সাংবাদিক মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে সিসিটিভি ফুটেজ যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। এদিকে সোনালী ব্যাংকের গঠিত তদন্ত কমিটি চিকিৎসকের অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ম্যানেজারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ডা. শাহারিয়া খানম আদালতে মানহানির মামলা করেন।

মামলায় ভিডিও প্রকাশের কারণে সাংবাদিককেও আসামি করা হয়। ১১ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দায়ের হওয়া মামলাটি সূত্রাপুর থানা পুলিশ তদন্ত করে। গত ৫ মার্চ আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে পুলিশ জানায় সাংবাদিক তার পেশাগত দায়িত্ব থেকেই ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন এবং ব্যাংকারের সঙ্গে তার কোনো যোগসাজশ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত প্রতিবেদনের শেষাংশে বাদীর অভিযোগ প্রাথমিকভাবে সত্য প্রতীয়মান হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এই মন্তব্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে ডা. শাহারিয়া খানম জানিয়েছেন তিনি সামাজিকভাবে হেয় হয়েছেন এবং বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া আদালত নির্ধারণ করবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এস এম/ ১৪ মার্চ ২০২৬



Scroll to Top