টানা দ্বিতীয় শিরোপার লক্ষ্যে রোববার স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। ফাইনালের খেলায় গ্যালারিতে থাকবেন না আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতি হাভিয়ের মিলেই। জানালেন, কুসংস্কার মানার কারণে মাঠে না গিয়ে ঘরে বসেই ফাইনাল দেখবেন। এমনকি ভারী জ্যাকেটও পরবেন খেলার সময়।
বিশ্বকাপ ফাইনাল মাঠে বসে দেখার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ পেয়েছেন হাভিয়ের মিলেই। তবে ফাইনাল তিনি প্রেসিডেন্ট ভবনে বসে দেখবেন জানিয়েছেন। কারণ, এখানে বসেই লিওনেল মেসিদের ৭টি ম্যাচ দেখেছেন এবং সবকটিই জিতেছে দল।
আর্জেন্টিনার এক রেডিওতে মিলেই বলেছেন, নিউ জার্সিতে ফাইনাল দেখতে যাবেন না। বলেছেন, ‘কোনভাবেই না! অন্যসব ম্যাচের মতো অলিবোসে (রাষ্ট্রপতি ভবন) বসেই খেলা দেখব।’
জিজ্ঞেস করা হয় কুসংস্কারের কারণেই বাড়িতে বসে খেলা দেখবেন কিনা। বলেছেন, হ্যাঁ।
এমনকি একই ভারী জ্যাকেটও গায়ে চাপিয়ে খেলা দেখবেন তিনি। বলেছেন, ‘যেহেতু এখন ঠাণ্ডা আর আমি হিটার চালাই না, তাই একটি তেল কোম্পানির ব্র্যান্ডের জ্যাকেট পরি। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের দিন এটা পরে আমার খুব গরম লাগছিল। তখন ওটা খুলে ফেলি, আর ওরা আমাদের বিপক্ষে একটা গোল করে দেয়। তখন আবার ওটা পরে নিই এবং এরপর আর কখনও খুলিনি।’
মিলেইয়ের মতে, বেশিরভাগ আর্জেন্টাইনদের এমন কিছু প্রথা আছে যা অনুযায়ী দল জিততে থাকলে তারা হুবহু একই রুটিন মেনে চলেন। যার মধ্যে কেউ প্রতিটি ম্যাচে একই পোশাক পরেন এবং বিশ্বকাপ চলাকালীন তাদের জার্সি ধুতে অস্বীকার করেন। কেউ প্রতিটি খেলা একই জায়গায় বসে দেখেন, আবার কাউকে খেলা দেখার অনুমতিই দেওয়া হয় না, যেমনটা হতে পারে তাদের ক্ষেত্রে যারা আর্জেন্টিনা গোল করার সময় বাথরুমে থাকেন।
ছোট ছোট কাজগুলো আর্জেন্টিনায় অসাধারণ তাৎপর্য বহন করে। এই বিশ্বকাপের একটি বহুল প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মিশরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা গোল করা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই একদল ভক্ত বাইবেল থেকে পড়া শুরু করেন, যা তখন থেকে তাদের প্রতিটি ম্যাচেই পুনরাবৃত্তি করতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ দলের উপর প্রভাব ফেলার একটি প্রচলিত প্রথা হল, খেলোয়াড়দের মূর্তি বা প্রতিপক্ষের নাম লেখা কাগজের টুকরো জমিয়ে বরফ করে দেয়া।
আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রপতিরা তাদের দলের জন্য দুর্ভাগ্য বয়ে আনা এড়াতে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকার ব্যাপারে দীর্ঘদিন ধরেই সতর্কতা অবলম্বন করে আসছেন। এই কুসংস্কারটির সূত্রপাত ১৯৯০ বিশ্বকাপ থেকে। সেবার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা দলের সঙ্গে দেখা করেছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি কার্লোস মেনেম। পরে সেই ম্যাচে বিশ্বকাপ ইতিহাসের স্মরণীয় এক অঘটনের জন্ম দিনে ডিয়েগো ম্যারাডোনার দলকে হারায় ক্যামেরুন।
মেনেমকে তখন ‘মুফা’ বা কুফা বলে আখ্যা দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকে কোন ক্ষমতাসীন আর্জেন্টাইন রাষ্ট্রপতিকে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের কোন ম্যাচে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।


