ফরিদপুরে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নেই: লোকসানে পড়ে ফসল ডোবায় ফেলছেন কৃষকরা – DesheBideshe

ফরিদপুরে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নেই: লোকসানে পড়ে ফসল ডোবায় ফেলছেন কৃষকরা – DesheBideshe


ফরিদপুরে পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য নেই: লোকসানে পড়ে ফসল ডোবায় ফেলছেন কৃষকরা – DesheBideshe

ফরিদপুর, ৩০ জুন – ফরিদপুরের পেঁয়াজ চাষিরা বাম্পার ফলন সত্ত্বেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না থাকায় চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হয়ে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে অনেক কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসল ডোবা বা পুকুরে ফেলে দিচ্ছেন।

জেলার সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় এমন করুণ চিত্র দেখা গেছে।

কৃষকদের দাবি অনুযায়ী বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পেঁয়াজ মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদনে তাদের খরচ হয়েছে প্রায় এক হাজার ৬০০ টাকা। সার, বীজ, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় এবার কয়েক গুণ বেড়েছে। ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে আবাদ করা অনেক কৃষক এখন কিস্তির টাকা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছেন।

চাষিরা জানান, ফসল ঘরে রাখলে কয়েক মাসের মধ্যে পচে ওজন কমে যায়, ফলে লোকসানের মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়।

সালথা বাজারে আসা কৃষক আহম্মদ মাতুব্বর জানান, এক মণ পেঁয়াজ বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যাচ্ছে তা দিয়ে এক কেজি গরুর মাংস কেনাও সম্ভব হচ্ছে না। লোকসানের এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে পেঁয়াজ আবাদ বন্ধ করে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় চাষিরা।

শুধু সালথাই নয়, জেলার সদরপুর, নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার চাষিরাও একই সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় কৃষকদের রক্ষায় সরকারিভাবে পেঁয়াজ সংগ্রহ ও আধুনিক সংরক্ষণাগার নির্মাণের দাবি উঠেছে।

সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে। বাজারদর নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে না থাকলেও কৃষকদের আধুনিক সংরক্ষণ পদ্ধতির বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, কৃষকদের সংরক্ষণ সুবিধা বাড়াতে ইতিমধ্যে এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে উঠলে কৃষকদের আর বাধ্য হয়ে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হবে না।

এনএন/ ৩০ জুন ২০২৬



Scroll to Top