ফরাসিদের জয়রথ থামিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন | চ্যানেল আই অনলাইন

ফরাসিদের জয়রথ থামিয়ে ১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন | চ্যানেল আই অনলাইন

২০১০ সালে সবশেষ বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছিল স্পেন। সেবার চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা। এরপর কেটে গেছে ১৬ বছর। অপেক্ষার প্রহর শেষে আবারও ফাইনালের টিকিট কেটেছে লা রোজারা। প্রথম সেমিফাইনালে চলতি আসরের হটফেভারিট ফ্রান্সের জয়রথ থামাল স্প্যানিশরা। আগের ৬ ম্যাচে জেতা ফরাসিদের জালে মিকেল ওয়েরজাবাল ও পেদ্রো পোরোর গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতে বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠেছে কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে শিষ্যরা।

ডালাসের এটি অ্যান্ড টি স্টেডিয়ামে স্পেনের হয়ে গোল করেছেন মিকেল ওয়েরজাবাল ও পেদ্রো পোরো। আগামী ১৯ জুন বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ফাইনালে তারা মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা ম্যাচে জয়ী দলের বিপক্ষে।

ডালাসে ম্যাচের শুরু থেকেই জমে ওঠে লড়াই। দুদলই একে অপরের ওপর চাপ প্রয়োগ করে সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছে। ম্যাচের ১০ মিনিটে ফ্রান্সের বক্সের কাছাকাছি জায়গায় ফ্রি-কিক পায় স্পেন। দানি ওলমোকে ফাউল করে স্পেনকে এই ফ্রি-কিক উপহার দেন আদ্রিয়েন রাবিওত। তবে কাজে লাগাতে পারেনি স্প্যানিশরা।

১৬ মিনিটে স্পেনের রক্ষণে ভয় ধরান উসমানে ডেম্বেলে-কাইলিয়ান এমবাপে জুটি। নিজেদের রক্ষণের ডান পাশ থেকে দুর্দান্ত লং বল দেন ডেম্বেলে। দারুণ গতিতে এগিয়ে গিয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে নেন এমবাপে। পরে তিন ডিফেন্ডারের সঙ্গে লড়াই করে ডি-বক্সেও ঢুকে যান ফ্রান্স অধিনায়ক। তবে শেষ পর্যন্ত শট করতে পারলেন না। অন্য পাশে মাইকেল ওলিসে বল পেলেও তার ক্রস কর্নারের বিনিময় ঠেকায় স্পেন।

২০ মিনিটে ফ্রান্সের বক্সের ভেতর ফাউলের শিকার হন ইয়ামাল, বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ইয়ামালের পায়ে জোরে আঘাত করেন লুকাস ডিগনে। পেনাল্টি পায় স্পেন। স্পট কিকে গোল করে স্পেনকে লিড এনে দেন মিকেল ওয়েরজাবাল। এই গোলের মাধ্যমে এক মৌসুমে স্পেনের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড গড়েন ওয়েরজাবাল। ২০২৫-২৬ মৌসুমে তার গোলসংখ্যা এখন ১৪। আগের রেকর্ডটি ছিল ডেভিড ভিয়ার, ২০০৮-০৯ মৌসুমে ১৩ গোল করেছিলেন।

পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের ৩০ মিনিটে রক্ষণভাগের অতন্দ্রপ্রহরী উইলিয়াম সালিবাকে হারায় ফ্রান্স। চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। তার জায়গায় নামেন ম্যাক্সেন্স লাক্রোইক্স।

গোল হজমের পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ফ্রান্স। ম্যাচের ৩৬ মিনিটে দারুণ ড্রিবলিংয়ে ডি-বক্সে ঢোকার পর বাম পাশ থেকে জোরাল শট নিলেন ব্র্যাডলি বারকোলা। তবে বারের ওপর দিয়ে চলে যায় বল।

৩৮ মিনিটে পাল্টা আক্রমণে যায় স্পেন। দানি ওলমো, লামিন ইয়ামালদের চমৎকার বোঝাপড়ার পর দারুণ জায়গায় বল পেলেন ফ্যাবিয়ান রুইজ। কিন্তু ভালো ফিনিশিংয়ের অভাবে বেঁচে যায় ফ্রান্স।

৪২ মিনিটে স্পেনকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক উনাই সিমন। আদ্রিয়েন রাবিওতের চমৎকার থ্রু বলে পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন এমবাপে। তবে তিনি বল পাওয়ার আগেই ডি-বক্স থেকে অনেকটা ছুটে এসে স্লাইডিং শটে বল ক্লিয়ার করেন সিমন।

এরপর যোগকরা সময়ে ফের সুযোগ তৈরি করে স্পেন। ডান পাশ দিয়ে দ্রুত গতিতে আক্রমণে যান হুলেস কৌন্ডে। ডি বক্সের কাছাকাছি গিয়ে চমৎকার ক্রসও দিলেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার। তবে সময়মতো কাছাকাছি যেতে পারলেন না এমবাপে। ফলে বেঁচে যায় স্পেন। শেষ অবধি ১-০তে এগিয়ে বিরতিতে যায় স্পেন।

বিরতির পর নেমে ৫৮ মিনিটে স্পেনের লিড দ্বিগুণ করেন পেদ্রো পোরো। দানি ওলমোকে পাস দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে যান পেদ্রো, প্রথম ছোঁয়ায় আবার পেদ্রোকে পাস দেন ওলমো। পরে এগিয়ে আসা ফ্রান্স গোলরক্ষক মাইক ম্যাগনানকে পরাস্ত করে জালে বল পাঠান। ২-০তে এগিয়ে যায় স্পেন।

৬১ মিনিটে আরও একবার জালের দেখা পায় স্পেন। দারুণ ড্রিবলিংয়ে এগিয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান লামিন ইয়ামাল। তবে বল রিসিভ করার সময় অফসাইডে ছিলেন তিনি। তাই বাতিল হয় গোলটি।

৮১ মিনিটে আরও একবার স্পেনের জাল অক্ষত রাখেন উনাই সিমন। ফ্রান্সের লং বল ঠেকাতে ডি-বক্সের অনেক বাইরে গিয়ে হেড বল ক্লিয়ার করেন স্পেন গোলরক্ষক। তার হেডে পুরোপুরি বিপদ না কাটায় বল পেয়ে গেলেন ডিজায়ার দুয়ে। সিমন ডি-বক্সে ফেরার আগেই শট নেন দুয়ে। ডি-বক্সের বাইরে থেকেই সেটি পা দিয়ে ঠেকান সিমন। পরে ডি-বক্সে বল নিজের দখলে নেন। রক্ষা পায় স্পেন। শেষ অবধি লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে স্প্যানিয়ার্ডরা।

Scroll to Top