বিশ্বকাপ শেষ, তবে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে আলোচনা থামছে না। নিয়ম লঙ্ঘনের কর্মকাণ্ডের কারণে শাস্তির খবর আসছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলে সেমিফাইনাল জয়ের পর খেলোয়াড়দের হাতে থাকা ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনার’ লেখা ব্যানারের কারণে ফিফা দলটির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। অবশ্য কীধরনের শাস্তি সেটি এখনও ঠিক করেনি অভিভাবক সংস্থাটি।
ব্যানারটি ফিফা কোডের ১৩ নং অনুচ্ছেদের ২(গ) ধারার লঙ্ঘন। যেখানে বলা হয়েছে, কোন ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে অক্রীড়াসুলভ কার্যকলাপের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। বিশ্বকাপে আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মহাকাব্যিক জয়ের পর মাঠে বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। মাঠে উল্লাসের একপর্যায়ে গ্যালারি থেকে সমর্থকদের ছুঁড়ে দেওয়া একটি ব্যানার হাতে তুলে নেন আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা।
ব্যানারে স্প্যানিশ ভাষায় স্পষ্টাক্ষরে লেখা ছিল, ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’। যার বাংলা অর্থ, ‘মালভিনাস (ফকল্যান্ড) দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার।’ ব্যানারটি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের উপর আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্বের দাবির প্রতি ইঙ্গিত করে সামনে আনা হয়েছিল।
আর্জেন্টিনা ফুটবলের (এএফএ) বিরুদ্ধে মামলাটি মূলত স্লোগান দেয়া এবং অনুপযুক্ত বার্তা প্রদানের সাথে সম্পর্কিত। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ সম্পর্কিত এ ইঙ্গিত একটি রাজনৈতিক উস্কানিও, বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। দ্বীপপুঞ্জকে আর্জেন্টিনা ‘ইসলাস মালভিনাস’ নামে দাবি করে, কিন্তু যা যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ফিফা বিবৃতিতে বলেছে, ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬এ আর্জেন্টিনার প্রতিনিধি দলের বেশ কয়েকটি ম্যাচের সাথে সম্পর্কিত বৈষম্যমূলক স্লোগান ও অঙ্গভঙ্গি, দল ও দর্শকদের দ্বারা অনুপযুক্ত বার্তা প্রদর্শন এবং দর্শকদের দ্বারা বস্তু নিক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে, ফিফা শৃঙ্খলা কমিটি ফিফা শৃঙ্খলাবিধির ১৩ নং অনুচ্ছেদের ২(গ) ধারার (ক্রীড়া অনুষ্ঠানকে অক্রীড়াসুলভ প্রদর্শনের জন্য ব্যবহার) সম্ভাব্য লঙ্ঘনের জন্য আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিরুদ্ধে কার্যক্রম শুরু করেছে।’
তবে ফিফা এখনও উল্লেখ করেনি, আর্জেন্টিনা ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিরুদ্ধে ঠিক কোনধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বা কী শাস্তি দেবে।


