পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বদলে গেছে সবকিছু। এর মধ্যেই প্রাণনাশের হুমকি পেলেন বিদায়ী বিধায়ক ও অভিনেতা সোহম চক্রবর্তী। নেপথ্যে কি কোনও রাজনৈতিক কারণ?
যদিও এজন্য সোহম এমন দাবি নাকচ করেছেন। জানিয়েছেন, রাজনৈতিক কারণে এই হুমকি নয়, বরং তার পেশা অভিনয়ের কারণেই এই হুমকি পেয়েছেন তিনি।
২০১৮ সালে একটি বাংলা ছবিতে অভিনয় করার কথা ছিল সোহমের। পরিচালক ছিলেন মহুয়া চক্রবর্তী। প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন তরুণ দাস। এই ছবিতে অভিনয় করার জন্য নিয়মমাফিক ১৫ লক্ষ টাকা অগ্রিমও দেওয়া হয়েছিল সোহমকে। তবে সোহমের দাবি, পরে হঠাৎই পরিচালক মহুয়া তাকে জানান, প্রযোজকের ব্যবহারে তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন না। তাই পরিচালক ছবি থেকে সরে যাচ্ছেন।
সোহম ছবিটি করার জন্য প্রথম থেকেই প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু এই প্রযোজক আগে কখনওই সরাসরি সোহমকে ফোন করেননি, দেখাও করেননি। বরাবরই তাঁর টিমের মাধ্যমে কথা হয়েছিল। এর পর গত ৮ বছর ধরে ছবিটি নিয়ে নাড়াচাড়া হয়নি।
কয়েকদিন আগে প্রযোজকের তরফ থেকে ফোন করা হয় সোহমকে, অগ্রিম ১৫ লাখ টাকা ফেরত নেওয়ার জন্য। কিন্তু সোহম প্রযোজককে স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইন্ডাস্ট্রির নিয়ম অনুযায়ী, অগ্রিম টাকা এ ক্ষেত্রে ফেরত দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। কারণ, প্রযোজকই ছবিটি তৈরি করছেন না।
অন্য দিকে, প্রযোজকের তরফ থেকে অভিযোগ ছিল, সোহমের কাছে বার বার ডেট চেয়েও, না পাওয়ার কারণেই নাকি ছবিটা তৈরি করা যায়নি। প্রযোজকের এই অভিযোগ নস্যাৎ করে সোহম জানিয়েছেন, সেই সময় তিনি এতটাও ব্যস্ত ছিলেন না যে ডেট দিতে পারতেন না।
এখানেই শেষ নয়। সোহমের অভিযোগ, প্রযোজক তার অফিসে আসেন এবং টাকা ফেরত চান। সোহমও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অগ্রিম টাকা এ ক্ষেত্রে ফেরতযোগ্য নয়। এর পরেই মঙ্গলবার রাতে সোহমকে ফোন করে প্রযোজক তরুণ দাস অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রযোজক বলেন, “তির-ধনুক চলবে, খেলা হবে।”
সোহম বলেন, “প্রযোজক রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের কথা বলে, আমাকে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়েছেন। সঙ্গে যোগ করেছেন জয় শ্রীরাম স্লোগান!” এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আইনি পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছেন সোহম।





