
ঢাকা,৩১ অক্টোবর-তৈরি পোশাকশ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের গেজেট আগামীকাল রবিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। একই সঙ্গে শ্রমিকদের আন্দোলন ছেড়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রম ভবনে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিট পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান মন্ত্রী।
শ্রমমন্ত্রী বলেন, মজুরি বোর্ড গঠনের বিষয়ে শুক্রবার শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ভিত্তিতেই রবিবার গেজেট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘মজুরি বোর্ড গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বোর্ডে শ্রমিক প্রতিনিধিদের মনোনীত সদস্যদের তালিকাও পাওয়া গেছে।’
মন্ত্রী জানান, নতুন মজুরি বোর্ডের মেয়াদ পাঁচ বছরের পরিবর্তে তিন বছর করার বিষয়ে মালিকপক্ষ সম্মতি দিয়েছে। মালিকদের পক্ষ থেকেও বোর্ডের জন্য প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মজুরি বোর্ড গঠন শ্রমিকদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সেই দাবি পূরণের উদ্যোগ নিয়েছে। তাই এখন শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়া উচিত।
যেসব কারখানায় এখনো শ্রমিকদের বেতন ও অন্যান্য পাওনা পরিশোধ করা হয়নি, সেগুলো দ্রুত পরিশোধ নিশ্চিত করতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান শ্রমমন্ত্রী।
কারখানার মালিকদের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে মালিকদের কোনো আপত্তি নেই। তবে কারখানা বন্ধ থাকলে উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে বিদেশি ক্রেতাদের কাছ থেকে অর্থ পেতে দেরি হতে পারে। ফলে নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী দাবি করেন, এসব কর্মসূচিতে প্রকৃত কারখানার শ্রমিকেরা জড়িত নন। বাইরে থেকে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে চায়। যেকোনো বিরোধ বা সমস্যা সমাধানে আলোচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। কাউকে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে দেওয়া হবে না।
শ্রমমন্ত্রী আরও বলেন, বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ এবং মজুরি বোর্ড গঠনে সরকারের উদ্যোগের পর কারখানাগুলোতে স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ফিরে আসা উচিত।
এস এম/ ৩১ অক্টোবর ২০২৬



