পৃথিবীটাই ফিচারের রসদ: সুমনা শারমীনের গল্পদৃষ্টি

ফিচার লেখার সময় লেখককে নিজের লেখার পাঠকও হতে হয়। নিজেকে প্রশ্ন করতে হয়—আমি যদি পাঠক হতাম, কোথায় থামতাম? কোন তথ্য আমাকে অবাক করত? কোন দৃশ্য আমাকে স্পর্শ করত? কোন জায়গা থেকে আমি লেখাটি পড়তে শুরু করতে চাইতাম? এ প্রশ্নগুলোই লেখাকে আরও ধারালো করে।

আর শুরু যেমন গুরুত্বপূর্ণ, শেষও তেমন। একটি ভালো ফিচার শেষ হওয়ার পরও যদি তার গল্প পাঠকের মনে থেকে যায়, তাহলে সেই লেখা সফল। কখনো কোনো প্রশ্ন রেখে শেষ করা যায়, কখনো কোনো দৃশ্য দিয়ে, আবার কখনো এমন একটি তথ্য দিয়ে যা পাঠককে লেখাটি শেষ করার পরও ভাবতে বাধ্য করে।

শেষ পর্যন্ত ফিচার শুধু তথ্য পরিবেশনের একটি মাধ্যম নয়। এটি তথ্যকে মানুষের গল্পে রূপ দেওয়ার একটি শিল্প। এখানে সাংবাদিকের চোখের সঙ্গে যুক্ত হয় গল্পকারের অনুভূতি; গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয় পর্যবেক্ষণ; তথ্যের সঙ্গে যুক্ত হয় মানবিকতা।

এ আলোচনার সবচেয়ে বড় শিক্ষা যেন এটাই—ফিচারের জন্য গল্প আমাদের চারপাশেই আছে। শুধু সেই গল্পটি দেখতে জানতে হবে।
হয়তো গল্পটি বৃষ্টির দিনে কারওয়ান বাজারে দাঁড়িয়ে থাকা এক নারীর। হয়তো পুরোনো কোনো বাড়ির। হয়তো এমন একজন মানুষের, যার পাশ দিয়ে আমরা প্রতিদিন হেঁটে যাই, কিন্তু কখনো তাঁর জীবনের গল্প জানতে চাইনি।
একজন ভালো ফিচার লেখক সেই গল্পটিই খুঁজে নেন। তিনি ঘটনা শুধু দেখেন না—ঘটনার ভেতরের মানুষটিকে দেখেন। শুধু তথ্য সংগ্রহ করেন না—তথ্যের ভেতরের গল্পটি আবিষ্কার করেন। আর সেই গল্প এমনভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরেন, যাতে লেখা শেষ হওয়ার পরও পাঠকের মনে একটি প্রশ্ন থেকে যায়—‘তারপর?’

সহকারী অধ্যাপক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

Scroll to Top