পুলিশের ৯৯% সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল : আইজিপি

পুলিশের ৯৯% সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল : আইজিপি

পুলিশের অধিকাংশ সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির। তিনি বলেন, অল্প কিছু অনিয়মের কারণে যেন পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা আরও জোরদার করা জরুরি।

পুলিশের ৯৯% সদস্য সৎ ও দায়িত্বশীল : আইজিপি

সোমবার রাজধানীর মালিবাগে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সদর দপ্তরে জানুয়ারি থেকে মার্চ ২০২৬ সময়কালের ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী ও জনবান্ধব করা সম্ভব। তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও সম্মিলিত উদ্যোগে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। একটি সফল জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে পুলিশ সদস্যরা নতুন করে আত্মবিশ্বাস অর্জন করেছেন এবং জনগণের প্রশংসা পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, দেশের অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থায় সিআইডি শীর্ষ সংস্থা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, দায়িত্ববোধ ও আইনগত ক্ষমতা বিচার ও আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে। তাই প্রত্যেক সদস্যকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দক্ষতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

তদন্ত কার্যক্রমের গতি ও মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইজিপি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে মামলার দ্রুত ও সঠিক নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকির পাশাপাশি তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বার্থ, অনিয়ম বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই সবাইকে পেশাদার আচরণ বজায় রাখতে হবে। অপরাধের মূল কারণ বিশ্লেষণ করে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত দল গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।

মাদক ও সাইবার অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আইজিপি বলেন, পুলিশের অধিকাংশ সদস্যই সৎ। তবে অল্প কিছু অনিয়ম যেন পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। জনগণের আস্থা ও সম্মান অর্জনে সিআইডির কার্যক্রম আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, দুই দিনের এই সভায় জেলা ও বিভিন্ন ইউনিট তাদের কার্যক্রম, সাফল্য, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছে। আলোচনার ভিত্তিতে একটি বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা আগামী তিন মাসে বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি বলেন, একজন সদস্যের ভুলে পুরো বাহিনীর সুনাম নষ্ট হওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাই সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল থেকে নেতিবাচক কর্মকাণ্ড এড়িয়ে চলতে হবে। অতীতের চ্যালেঞ্জ পেছনে ফেলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যেকোনো লক্ষ্য অর্জন সম্ভব।

অনুষ্ঠানের শেষে সিআইডির বিভিন্ন ইউনিটের কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ কর্মকর্তাদের পুরস্কার প্রদান করা হয়। ভবিষ্যতে এই পুরস্কার ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করা হবে বলেও জানানো হয়।

Scroll to Top