পাল্টাপাল্টি হুমকিতে সংঘাতের চূড়ান্ত মোহনায় ইরান-আমেরিকা

পাল্টাপাল্টি হুমকিতে সংঘাতের চূড়ান্ত মোহনায় ইরান-আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার উত্তেজনা এখন আর শুধু সামরিক সংঘাতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা এক ভয়াবহ মানবিক ও পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কায় রূপ নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ‘পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে’ এবং ‘ব্রিজ ডে’ পালনের হুমকির প্রেক্ষাপটে ইরান পাল্টা হুঙ্কার দিয়ে জানিয়েছে, বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানলে ‘নরকের দ্বার’ উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে এই মুহূর্তে কোনো ধরনের কূটনৈতিক আলোচনার ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট নেই।

পাল্টাপাল্টি হুমকিতে সংঘাতের চূড়ান্ত মোহনায় ইরান-আমেরিকা

ইরানের সেনাবাহিনী ও বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সমন্বিত কমান্ড ‘খতাম আল-আম্বিয়া’ সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি শনিবার এক কড়া বিবৃতিতে ট্রাম্পকে ‘ভারসাম্যহীন ও বোকা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন ও ইসরাইলি আগ্রাসনের বিপরীতে ইরান প্রতিটি প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেছে।

তিনি বলেন, আমরা যা বলি, তা-ই করি। আমাদের এই বার্তার সহজ অর্থ হলো- তোমাদের জন্য নরকের দরজা খুলে দেয়া হবে। তিনি সতর্ক করেন, মার্কিন ‘সন্ত্রাসী’ সেনাবাহিনী এবং জায়নবাদী গোষ্ঠী যদি ইরানের জাতীয় সম্পদে আঘাত হানে, তবে তাদের প্রতিটি স্থাপনায় নিরবচ্ছিন্ন ও বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে।

ইরানি সশস্ত্র বাহিনী বর্তমানে তাদের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’ পরিচালনা করছে। এর আওতায় ইতিমধ্যে কয়েকশ ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইল এবং ড্রোন দিয়ে ওই অঞ্চলের কৌশলগত মার্কিন ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে অন্তত ৯৫ বার পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। হিজবুল্লাহ এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং নিরাপত্তা পরিষদের কাছে লেখা এক চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক স্থাপনায় মার্কিন-ইসরাইলি হামলা পুরো অঞ্চলকে তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

আরাগচি অভিযোগ করেন, আইএইএ-এর কঠোর নজরদারিতে থাকা এবং শান্তিপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত এই পরমাণু কেন্দ্রগুলোতে হামলার পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা এখন আন্তর্জাতিক আইনকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করছেন এবং প্রকাশ্যে বলছেন, পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালানো তাদের পরিকল্পনার বাইরে নয়।

আরাগচি তার চিঠিতে উল্লেখ করেন, গত নয় মাসে ইরান দুইবার বড় ধরনের আগ্রাসনের শিকার হয়েছে, কিন্তু জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বা আইএইএ এই অবৈধ হামলার নিন্দা জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নিষ্ক্রিয়তা আক্রমণকারীদের আরও দুঃসাহসী করে তুলছে এবং এর ফলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর গ্রহণযোগ্যতা চিরতরে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে এক বিশাল সামরিক অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সৈয়দ আলী খামেনেয়ী এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়।

আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে

এরপর থেকেই ইরান পাল্টাপাল্টি প্রতিশোধমূলক হামলা শুরু করে, যা এখন দুই পক্ষকেই এক মহাপ্রলয়ংকারী যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের ‘নরক’ বানানোর হুমকি আর ইরানের ‘নরকের দ্বার’ খোলার হুঁশিয়ারি- সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক অনিশ্চিত ধ্বংসযজ্ঞের অপেক্ষায়।

Scroll to Top