মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ায় ফেরিডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন হুমায়ুন কবির নামের এক ইঞ্জিনচালক। তার বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার মাটিভাঙ্গায়। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন স্ত্রী রজি আক্তার।
হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী রজি আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাকে ফোন দিয়ে তিনি (হুমায়ন) বলেন, আগামী শুক্রবার বাড়িতে আসব, পাঞ্জাবি ধুয়ে রেখো ছেলেকে নিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে যাবে। এ কথাই যে শেষ কথা হবে তা বুঝতে পারিনি। স্কুল পড়ুয়া দুই মেয়ে ও একমাত্র ছেলের পড়ালেখার খরচ কে বহন করবে।
১০ বছর বয়সী ছেলে ইয়াসিন জানায়, শুক্রবার সকালে বাবা বাড়িতে এসে আমার মার্কসিট দেখার কথা ছিল। মার্কসিট দেখে আমাকে নিয়ে দুপুরে নামাজ পড়তে যাবে মসজিদে এ কথাই ছিল বাবার সঙ্গে শেষ কথা।
একাদশ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে কামুন্নাহার বলেন, আমার বাবা গত মঙ্গলবার রাতে মাকে শেষবারের মত কল দেয়। কল দিয়ে বলে শীতে মেয়েদের যেন কষ্ট না হয়। কষ্ট হলে তার ব্যবহৃত পোশাক ব্যবহার করতে বলে। বাবা আমাদের প্রতিদিন ১০-১২ বার কল দিত। এখন আমাদের খোঁজ নিবে কে। আমাদের পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম হল বাবা। আমাদের লেখাপড়া কিভাবে চলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা পড়ে গেছি।

এ সময় নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট মেয়ে নূরি জান্নাত ক্ষোভ প্রকাশ করে বলে, আজ দুই দিন হলেও আমার বাবার কোন খোঁজ জানি না। এটা কেমন কথা। আমরা সরকারের কাছে আমার বাবার লাশটা অন্তত ফেরত চাই।
সাবেক ইউপি সদস্য মো. মনসুর আলী বলেন , হুমায়ন ছোট থেকে অনেক কষ্ট করে বড় হয়েছে। সে অনেক ভাল মনের মানুষ ছিল। আমরা স্থানীয়রা তাকে আমাদের মসজিদের সভাপতি করেছি। এই শুক্রবার বাড়িতে আসার কথা।
ঘন কুয়াশার কারণে বুধবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে পাটুরিয়া ঘাটে রজনীগন্ধা নামে একটি ফেরি ডুবে যায়। এ ফেরির মাস্টার ছিল হুমায়ুন কবির। তিনি ২০১১ সালে বিআইডব্লিইটিএ তে যোগদান করে।
হুমায়নের ছোট ভাই রফিকুল ইসলাম শাওন জানান, আমরা দুর্ঘটনার খবর শোনার পরে ঘাটে চলে আসি। পরে ট্রলার নিয়ে নদীতে ভাইয়ের লাশ খুঁজছি।ভাইয়ের লাশ উদ্ধারে কোন পদক্ষেপ দেখছি না সরকারের। বৃহস্পতিবার মাত্র একটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে কিন্তু ভাইয়ের লাশ উদ্ধারে কোন গতি নেই।
ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী আফিসার মো. ইয়াসিন আরাফাত রানা জানান, হুমায়ন কবির একজন সরকারি চাকরিজীবী। সরকারি বিধি মোতাবেক তার জন্য সকল ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



