ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর এবার পাঞ্জাবেও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী হরজ্যোত সিং বাইসের পদত্যাগ দাবি করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এ নিয়ে রাজ্যের ক্ষমতাসীন আম আদমি পার্টির সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর বাকযুদ্ধও শুরু হয়েছে।
এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিজেপির অভিযোগ—পাঞ্জাবে একের পর এক নিয়োগ ও বোর্ড পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীকে নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে পদত্যাগ করা উচিত।
বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী বলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে আম আদমি পার্টির প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়ালের উচিত পাঞ্জাবের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করা। তার অভিযোগ, পাঞ্জাব স্কুল শিক্ষা বোর্ডের দ্বাদশ শ্রেণির ইংরেজি পরীক্ষা, পাঞ্জাব স্টেট টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (পিএসটিইটি), কৃষি উন্নয়ন কর্মকর্তা নিয়োগ পরীক্ষা এবং পাঞ্জাব সাবঅর্ডিনেট সার্ভিসেস সিলেকশন বোর্ডের একাধিক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, নায়েব তহশিলদার ও ফার্মেসি অফিসার নিয়োগ পরীক্ষায় ব্যাপক নকলের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি আবগারি ও কর পরিদর্শক নিয়োগের মেধাতালিকায় ভুয়া নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগও তোলেন তিনি।
একই সুরে সমালোচনা করেছে পাঞ্জাব কংগ্রেসও। দলটির সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজা বলেন, গত চার বছরে অন্তত ছয়টি বড় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় অসংখ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। অথচ এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর জবাবদিহিতা দেখা যায়নি।
তবে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান। তিনি দাবি করেন, গত সাড়ে চার বছরে রাজ্যে একটি প্রশ্নপত্রও ফাঁস হয়নি। কেবল দুটি পরীক্ষাকেন্দ্রে নকলের চেষ্টা হয়েছিল এবং মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যেই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ভগবন্ত মান বলেন, পাঞ্জাবে প্রশ্নফাঁসের কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং ভবিষ্যতেও এমন ঘটনা ঘটতে দেওয়া হবে না। রাজ্যের পরীক্ষা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।



