
ইসলামাবাদ, ১৯ মার্চ – যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড সতর্ক করে বলেছেন, পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
মার্কিন সিনেটে উপস্থাপন করা ২০২৬ সালের বার্ষিক হুমকি মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই মন্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেছেন, পাকিস্তানের এই সামরিক প্রস্তুতি মূলত আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তুলসি গ্যাবার্ড তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন যে পাকিস্তান তাদের দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা ক্রমাগত বাড়িয়ে চলেছে।
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে আন্তর্মহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে রূপান্তরিত হতে পারে এবং একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো অবস্থায় পৌঁছাতে পারে। তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের মতো দেশগুলোও উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা তুলসি গ্যাবার্ডের এই দাবিকে অতিরঞ্জিত বলে মনে করছেন। তাদের মতে, পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। বিশেষ করে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক ক্ষেত্রে ভারসাম্য আনতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি আক্রমণ করার মতো কোনো সক্ষমতা পাকিস্তানের আছে কি না, তা এখনো সম্পূর্ণ অস্পষ্ট। তারা মনে করেন, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে এ ধরনের হুমকি মূল্যায়ন করা হলেও এটিকে তাৎক্ষণিক বা সরাসরি ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করা মোটেও যৌক্তিক নয়।
বরং এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
এ এম/ ১৯ মার্চ ২০২৬





