পড়াশোনার চাপ ভুলতে ওষুধের নেশায় আসক্ত চীনের কিশোর-কিশোরী | চ্যানেল আই অনলাইন

চীনে পড়াশোনা ও পরীক্ষার চাপ থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে একাংশ কিশোর-কিশোরী প্রেসক্রিপশন ওষুধের অপব্যবহারে জড়িয়ে পড়ছে। অনলাইনে সহজে পাওয়া বিভিন্ন ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন করে ঘোরের অনুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে তারা। এতে আসক্তি, শারীরিক ক্ষতি ও মানসিক ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৪ বছর বয়সী ‘শিয়াওমেই’ পড়াশোনার চাপ থেকে মুক্তি পেতে কাশির ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় সেবন শুরু করে। তার চেয়ে বয়সে বড় এক কিশোরের পরামর্শে প্রথমবার ওষুধটি নেওয়ার পর মাথা ঘোরার অনুভূতি তার ভালো লাগে। পরে পরীক্ষার চাপ, খারাপ ফলাফল কিংবা বাবা-মায়ের সঙ্গে ঝগড়া হলেও সে ওই ওষুধ সেবন করত।

বিবিসি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি চ্যাট গ্রুপে চীনের আরও কিশোর-কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানতে পেরেছে। তাদের অনেকে পড়াশোনা, পরীক্ষা, পরিবারের প্রত্যাশা ও ব্যর্থতার ভয় থেকে সাময়িকভাবে বাস্তবতা থেকে দূরে থাকতে ওষুধের ওপর নির্ভর করছে।

এক কিশোরী অতিরিক্ত মাত্রায় স্নায়ুর ব্যথার ওষুধ সেবনের পর একটি চ্যাট গ্রুপে ভয়েস বার্তা পাঠায়। তার কথা জড়িয়ে যাচ্ছিল এবং সে জানায়, শরীরটাকে নিজের মনে হচ্ছে না, প্রচণ্ড মাথা ঘুরছে। এরপরও চ্যাটে তাকে বলা হয়, ঘুমিয়ে পড়লে পরদিন ঠিক হয়ে যাবে।

চ্যাট গ্রুপগুলোতে কেউ কেউ প্রেসক্রিপশন ওষুধ কীভাবে সংগ্রহ করা যায় বা অনলাইনে কোন নামে খুঁজলে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে অন্যদের পরামর্শ দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে কিছু কিশোর-কিশোরী ওষুধের জন্য ভিন্ন নামও ব্যবহার করছে।

চীনা সরকার কয়েক বছর ধরে প্রেসক্রিপশন ওষুধের অপব্যবহার ঠেকাতে নিয়ন্ত্রণ বাড়িয়েছে। শিয়াওমেই যে কাশির ওষুধ দিয়ে শুরু করেছিল, সেটিকে দুই বছর আগে মানসিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে এমন ওষুধ হিসেবে শ্রেণিভুক্ত করা হয়। এরপর চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া এর বিক্রি সীমিত করা হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে তরুণদের মধ্যে আরেকটি ওষুধের অপব্যবহার বাড়তে দেখা গেলে সেটির প্রেসক্রিপশন ও বিক্রির ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়।

২০২৫ সালে চীনের বিচার মন্ত্রণালয়ের অপরাধ প্রতিরোধবিষয়ক একটি গবেষণাপত্রেও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এতে বলা হয়, কিছু ওষুধ সহজেই পাওয়া যাচ্ছে। কোনো একটি ওষুধের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো হলে তরুণরা দ্রুত অন্য ওষুধের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা দিতে চীন সরকার স্কুলে পরামর্শক কক্ষ, হাসপাতালে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং আরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশজুড়ে মানসিক সহায়তা ও সংকট মোকাবিলার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যও রয়েছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চীনের ৯২ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৯৫ শতাংশ জুনিয়র মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বর্তমানে পরামর্শদাতা রয়েছেন। তবে শিশু ও কিশোরদের চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ মনোরোগ চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো প্রয়োজনের তুলনায় কম।

Scroll to Top