
পটুয়াখালী, ২২ সেপ্টেম্বর – রাতের বাউফল হঠাৎ করেই রূপ নিল এক থমথমে রণক্ষেত্রে। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে পৌর শহরের অত্যন্ত জনবহুল ও গুরুত্বপূর্ণ চারটি স্থানে পরপর চারটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ৯টার দিকে আকস্মিক এই বোমাবাজির ঘটনায় ব্যবসায়ী, পথচারী ও স্থানীয় অধিবাসীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিস্ফোরণগুলো ঘটে বাউফল পৌর শহরের পাবলিক মাঠ, কুন্ডপট্টী, গোলাবাড়ী এবং খোদ উপজেলা পরিষদের ঠিক সামনের সড়কে। তবে সৌভাগ্যবশত, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত কিংবা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এক মিনিটের তাণ্ডব ও জনমনে চরম ভীতি
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত সোয়া ৯টার দিকে প্রায় এক মিনিটের ব্যবধানে শহরের চার পয়েন্ট থেকে একের পর এক বিকট শব্দ ভেসে আসে। কানফাটা বিস্ফোরণের শব্দে কেনাকাটা করতে আসা মানুষ দিগ্বিদিক ছোটাছুটি শুরু করেন এবং ব্যবসায়ীরা তড়িঘড়ি দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু সায়েম বলেন, “আমি দোকানে কেনাবেচায় ব্যস্ত ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে বুক কেঁপে ওঠে। ভয় পেয়ে বাইরে এসে দেখি সবাই দৌড়াদৌড়ি করছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে শহরের আলাদা চার জায়গায় কীভাবে ককটেল ফুটল, তা কেউই বুঝে উঠতে পারছিলেন না।”
বিকেলে নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা ও হামলা, রাতে ককটেল বিস্ফোরণ?
কারা এবং কী উদ্দেশ্যে পুরো শহরজুড়ে এমন ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করল—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে স্থানীয় সচেতন মহলের ধারণা, পৌর শহরের নিয়ন্ত্রণ ও বিকেলের রাজনৈতিক উত্তেজনার জের ধরেই এই পরিকল্পিত বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
জানা গেছে, একই দিন বিকেলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী পুলিশ সুপার রিয়াজ হোসেন খানের আগমন উপলক্ষে বাউফল পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক রাজনৈতিক জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। সমাবেশ শেষে তাঁর নেতৃত্বে একটি বর্ণাঢ্য মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা ও শোডাউন বের হয়।
কিন্তু উত্তেজনার পারদ চড়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে। অভিযোগ উঠেছে, ওই মোটরসাইকেল শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়াকে কেন্দ্র করে কার্তিক ও রুবেল নামের দুই ব্যক্তির ওপর একদল লোক অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাদের নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগ বা ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুললেও আক্রান্ত দুই যুবকের দাবি—তারা কখনো কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। বিকেলে প্রার্থী ঘোষণা ও সন্ধ্যায় এই মারধরের ঘটনার ধারাবাহিকতাতেই রাতের আঁধারে শহরজুড়ে ককটেল ফুটিয়ে ভয় প্রদর্শন করা হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মোতায়েন অতিরিক্ত পুলিশ, কড়া তদন্তের আশ্বাস
ককটেল বিস্ফোরণের আলামত সংগ্রহ এবং শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঘটনার পরপরই বাউফল থানা পুলিশ শহরের বিভিন্ন স্থানে টহল জোরদার করেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে পুরো পৌর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বাউফল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, “বিস্ফোরণের খবর পাওয়ামাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পুরো বাউফল শহর এখন পুলিশের কড়া নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। বিকেলের মারধরের ঘটনায় ভুক্তভোগীরা লিখিত অভিযোগ দিলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাতের ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি গভীর তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে, জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এনএন/ ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


