নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও আকস্মিক বন্যার ঘটনায় অন্তত ৫৪৭ জন নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার ২৮ আগস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি প্রকাশিত সূত্রে, দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। একই ঘটনায় ৯৭৭ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বুধবারের ঘটনায় আরও অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ হিসাবে নেপাল ও চীনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মোট মৃতের সংখ্যা ৫৫২। দুই দেশ মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ১ হাজার ৫০০ ছাড়িয়েছে।
বন্যার পর তৃতীয় দিনেও নেপালে উদ্ধার অভিযান চলছে। এ কাজে ১৪ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ হাজার ৭৪২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর এটিই নেপালের সবচেয়ে প্রাণঘাতী দুর্যোগ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, হিমবাহ ধসে পড়ার পর বরফ ও ধ্বংসাবশেষের বিশাল স্রোত নেমে এসে এই ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়।
এদিকে তিব্বতের অংশে একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর শুক্রবার নেপালের পুলিশ নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে। নিরাপত্তাকর্মী, উদ্ধারকারী ও ত্রাণকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় আটকে পড়া ভারতীয়দের উদ্ধারে অভিযানও চলছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, বন্যাকবলিত এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ২১ ভারতীয় কাঠমান্ডুতে পৌঁছেছেন।
এ ছাড়া ত্রিশূলী-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত ৬৩ ভারতীয়কেও উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি চীনের অংশে আটকে থাকা আরও ৯৬ ভারতীয় স্থলপথে নিরাপদে নেপালে প্রবেশ করেছেন।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ১৮০ জন ভারতীয়কে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে প্রায় ৩২০ ভারতীয় এবং ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১০০ জনের সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন জয়সওয়াল।