নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিপিএল, চুক্তি ছাড়াই খেলেছে দুটি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি | চ্যানেল আই অনলাইন

নীতিমালার তোয়াক্কা না করে বিপিএল, চুক্তি ছাড়াই খেলেছে দুটি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি | চ্যানেল আই অনলাইন

সবশেষ বিপিএল নিয়ে নাটকীয়তা কম হয়নি। ৫ দল থেকে ৬ দলো উন্নতিকরণ এবং টুর্নামেন্ট শুরুর আগেরদিন চট্টগ্রাম র‌য়্যালসের মালিকানা ছেড়ে দেয়া। সবমিলিয়ে আসরে ছিল সমালোচনা ও বিতর্ক। তৎকালীন বিসিবি গর্ভনিং কাউন্সিলের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও আনল তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অ্যাডহক কমিটি। জানাল, কোনোরকম নীতিমালার তোয়াক্কা না করে জোড়াতালি দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিপিএলের দ্বাদশ আসর। কোন প্রকার চুক্তি ছাড়াই খেলেছে দুটি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি- নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও সিলেট টাইটান্স।

বৃহস্পতিবার মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ববর্তী বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল ও সদস্য ফাহিম সিনহা। জানিয়েছেন, এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট (ইওআই) ছাড়াই দল পেয়েছে ২০২৫-২৬ আসরের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

তৎকালীন গর্ভনিং কমিটি জানিয়েছিল, দল পাওয়ার যোগ্যতা হিসেবে প্রত্যেক ফ্র‌্যাঞ্চাইজিকে ১০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়ার কথা ছিল। তবে ৫টি দলই তা করেনি। একটি ব্যাংক গ্যারান্টি দিলেও তা পুরোপুরি ছিল না, জানিয়েছেন তামিম ও ফাহিম সিনহা।

বিসিবি ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শাল তৎকালীন বোর্ডকে জানিয়েছিল- দুজন ব্যক্তির বিষয়ে আপত্তি রয়েছে ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের, তাদেরকে যেন ফ্র‌্যাঞ্চাইজি না দেয়া হয়। সেটা না মেনে একজনকে সরাসরি ফ্র‌্যাঞ্চাইজি দিয়েছিল তৎকালীন কমিটি।

সিনহা বলেছেন, ‘আমাদের ইন্টিগ্রিটি ডিপার্টমেন্টের অ্যালেক্স মার্শাল জানিয়েছিলেন ইওআই-র আগে দুজন ব্যক্তির ব্যাপারে যে তাদের ইন্টিগ্রিটি ইস্যু আছে, তাদের যেন ফ্র্যাঞ্চাইজি না দেয়া হয়। তখনকার গভর্নিং কাউন্সিলের কয়েকজন খুব জোর করে একজনকে বাধ্য করেছে দল দিতে। আরেকজনের ক্ষেত্রে একটু সহানুভূতি প্রদর্শন করে ওই ব্যক্তি নিজে না থেকে পেছনে থেকে আরেকজনকে সামনে দিয়ে দিয়েছে।’

‘সবচাইতে আশ্চর্যজনক জিনিস যেটা দেখলাম আমরা এসে, যে দুটি দলের সাথে এখন পর্যন্ত চুক্তিই হয় নাই অথচ একটা আসর খেলে ফেলেছে। পূর্বে যা যা সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল, ওটার কোনকিছুই মানা হয় নাই।’

নীতিমালার তোয়াক্কা না করে দ্বাদশ আসরকে জোড়াতালির বিপিএল আখ্যা দিয়ে তামিম বলেন, ‘দল দিচ্ছেন কাকে, যাকে আপনাদেরই লোকজন নিষেধ করছে যে এদেরকে টিম দেয়া যাবে না, তাদেরকেই দিচ্ছেন। পরিষ্কার তো উপর থেকেও হচ্ছিল না। কেন আপনারা এই টিমগুলোকে দিচ্ছেন যাদেরকে নিয়ে আপত্তি আছে? এটার পেছনে কী কারণ, কারা এটার সাথে জড়িত? এই জিনিসগুলো তুলে ধরার এখনই সময়।’

ব্যাংক নিশ্চয়তার বিষয়টা কোন দলই ঠিকঠাক মানেনি, জানিয়েছেন তামিম। বলেন, ‘ব্যাংক গ্যারান্টি যখন আমরা বলি একটা চেক যদি বিসিবিকে দেয়া হয় এটা ব্যাংক নিশ্চয়তা হিসেবে মানা যায়। এই প্রক্রিয়াটা কোনভাবেই কোন দল মানেনি। দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট খেলে ফেলেছে তাদের চুক্তি স্বাক্ষরই হয়নি। আপনি মনে করেন এটা ভুল? এটা কি ভুল হইতে পারে?’

বর্তমান বোর্ড মনে করছে ব্যক্তিগত স্বার্থে এসব করা হতে পারে। এমনকি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করায় আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বিসিবির। তামিম আর্থিক লোকসানের দায় দিচ্ছেন বিগত বোর্ড কর্মকর্তাদের। বলেছেন, ‘বিসিবির একজন পরিচালক হতে পারেন বা গভর্নিং কাউন্সিলের কেউ- তার একটা ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিসিবিকে পকেট (বিসিবির ফান্ড) থেকে টাকা দিতে হচ্ছে খেলোয়াড়দের। জেনে শুনে যে ভুলগুলো করেছেন আমার মতে, এটা অপরাধ। বিসিবির মনে হয় ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। যার বড় কারণ চিটাগং ফ্র্যাঞ্চাইজি।’

গত আসরে বিপিএল গভর্নিং কমিটির চেয়াম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সদস্য সচিব ছিলেন ইফতেখার রহমান মিঠু্। এসবের জন্য অবশ্য বিগত বিপিএল গর্ভনিং কাউন্সিলকে জবাবদিহির আওতায় আনা হতে পারে, জানিয়েছেন তামিম।

বলেছেন, ‘সবশেষ বিপিএলে বুলবুল ভাই গভর্নিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ছিলেন। ওনাকে এর দায় নিতে হবে, উনি কোন কারণে ১০ কোটি টাকার জায়গায় ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন? বা একটা লোককে নিষেধ করেছে যে একে দল না দিতে, তাকে কী কারণে দল দিয়েছে? তার জবাবদিহি দিতে হবে।’

Scroll to Top