রাজধানীর হাতিরঝিল থানার পশ্চিম উলন এলাকায় নির্মাণাধীন একটি ভবনের লিফটের ফাঁকা স্থানে জমে থাকা পানিতে পড়ে তাহেদী (৮) নামের এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে় বুধবার রাতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করে স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার রাতে নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের শ্যাফটে জমে থাকা পানিতে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়। তারাবির নামাজের সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের একটি নির্মাণাধীন ভবনে তার মরদেহ দেখতে পায় তারা। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
স্বজন ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিপীড়নের পর শিশুটিকে হত্যা করে নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা স্থানে লাশ ফেলে রাখা হয়। পরিবার মামলা করতে গেলে প্রথমে হাতিরঝিল থানা গড়িমসি করে। পরে এলাকাবাসী থানা ঘেরাও করলে রাত ১১টার দিকে মামলা নেওয়া হয়। শিশুটির বাবা লিটন মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন; আন্দোলনের মুখে ভবনের দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।
পরিবার জানায়, কুমিল্লার তিতাস উপজেলা-র আলীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা লিটন মিয়ার মেয়ে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। মঙ্গলবার রাতে খেলতে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর রাত ১টার দিকে পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের পানিতে তার মরদেহ পাওয়া যায়। হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন; পরে মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হয়।
স্বজনদের দাবি, শিশুটির মুখে বিস্কুটের গুঁড়া ছিল এবং পেটে পানি না থাকায় মৃত্যু নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলেও পুলিশের সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে দাফন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজা বলেন, মরদেহে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে পানিতে পড়ে মৃত্যুর ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা প্রক্রিয়াধীন। কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।



