![]()
ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি – জাতীয় নাগরিক পার্টির বা এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন যে নির্বাচনের স্বার্থে জোট গঠন করা হলেও দেশে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলের লা ভিতা হলে আয়োজিত দলের ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে এনসিপির প্রধান লক্ষ্য হলো সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা।
এনসিপির আহ্বায়ক উল্লেখ করেন যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে একটি নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির আত্মপ্রকাশ এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ তাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তিনি বলেন যে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই দলের নেতৃত্ব ও আদর্শিক ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
নাহিদ ইসলাম আগস্ট মাসে শহীদ মিনারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন যে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ শুরু করেছিলেন। বিগত ১৬ বছর এবং স্বাধীনতার পরবর্তী ৫০ বছরে তৈরি হওয়া যে ব্যবস্থার কারণে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনি তা পরিবর্তনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়ার পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন যে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাধারণ মানুষ সেই স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধেই রাজপথে নেমেছিল।
জোট গঠন নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে এটি মূলত একটি নির্বাচনী জোট যেখানে ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে নির্বাচনের মাধ্যমে সংস্কারের প্রতিশ্রুতিগুলো গণভোটে পরিণত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের মাধ্যমে নতুন বন্দোবস্ত অর্জিত হবে। এনসিপির ইশতেহারে তারুণ্য এবং জাতীয় মর্যাদাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন যে নাগরিক অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র গঠন করাই তাদের লক্ষ্য। আধিপত্যবাদ মোকাবিলার জন্য নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের ওপর জোর দেন এই তরুণ নেতা।
এনএন/ ৩০ জানুয়ারি ২০২৬





