নিরাপত্তার কড়াকড়িতে ১৯ বছর পর লাহোরে ফিরল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’ – DesheBideshe

নিরাপত্তার কড়াকড়িতে ১৯ বছর পর লাহোরে ফিরল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’ – DesheBideshe

নিরাপত্তার কড়াকড়িতে ১৯ বছর পর লাহোরে ফিরল ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’ – DesheBideshe

পাকিস্তান, ৯ ফেব্রুয়ারি – নিরাপত্তাজনিত কারণে দীর্ঘ ১৯ বছর নিষিদ্ধ থাকার পর পাকিস্তানের লাহোরে আবারও ফিরে এসেছে ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব ‘বসন্ত’। শহরের আকাশ ছেয়ে গেছে রঙিন ঘুড়িতে এবং বাড়ির ছাদে ছাদে মানুষের উল্লাস ও ঢোলের শব্দ বসন্তের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। প্রায় দুই দশক পর হারানো এই সাংস্কৃতিক উৎসব ফিরে পেয়ে আনন্দে মেতেছে পুরো শহর। শহরের অলিগলিতে বৈদ্যুতিক তারে আটকে থাকা ঘুড়ি নামানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে কিশোর ও তরুণদের।

আকাশে উড়ছে অসংখ্য ঘুড়ি যা কখনো আঁকাবাঁকা পথে আবার কখনো স্থির হয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে। লাহোরের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী টেক ইঞ্জিনিয়ার আবু বকর আহমেদ জানান যে ঘুড়ি ওড়ানো মোটেও সহজ কাজ নয়। তাঁর চাচাতো ভাই তাঁকে ঘুড়ির সুতা টানার কৌশল শেখাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁদের পুরো প্রজন্মই ভীষণ উত্তেজিত কারণ আগের প্রজন্ম এই উৎসব সম্পর্কে জানলেও বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের কাছে এটি একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। পাকিস্তানে বসন্ত মৌসুমের সূচনা উপলক্ষে শত শত বছর ধরে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে ধারালো সুতায় পথচারী বা মোটরসাইকেল আরোহীদের গলা কেটে যাওয়া, ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া এবং আকাশে গুলি ছোড়ার মতো প্রাণঘাতী ঘটনার কারণে ২০০৭ সালে উৎসবটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

এবার সেই অতীত অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে শহরজুড়ে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এবারের উৎসব সীমিত করা হয়েছে মাত্র তিন দিনের জন্য এবং বড় আকারের ঘুড়ি ও ঝুঁকিপূর্ণ সুতা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নাবালকদের ঘুড়ি ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পাশাপাশি মোটরসাইকেল আরোহীদের সুরক্ষায় হ্যান্ডেলের মাঝে ধাতব দণ্ড লাগানো হয়েছে যাতে সুতা গলায় না পেঁচায়। বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা এড়াতে কিছু রাস্তায় জাল বসানো হয়েছে এবং ড্রোন ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। লাহোর পুলিশের উপ ইন্সপেক্টর জেনারেল জানিয়েছেন যে উৎসব শুরুর আগেই তাঁরা এক লাখের বেশি ঘুড়ি ও দুই হাজারের বেশি সুতার রিল জব্দ করেছেন।

এস এম/ ৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬



Scroll to Top